অনুপ্রেরণায় সালমান শাহ

0
501

আরিফিন শুভ

ভীষণ পছন্দের ‘জীবন সংসার’ ও ‘অন্তরে অন্তরে’ 
আরিফিন শুভ, চিত্রনায়ক
সালমান শাহ অভিনীত অনেক ছবিই আমি দেখেছি। তখন অনেক ছোট ছিলাম, তাই সব ছবির নাম মনে নেই। তবে আমার ভীষণ পছন্দের ছবি জীবন সংসার ও অন্তরে অন্তরে। আমার জীবনে এই ছবি দুটি ‘রিমার্কেবল’। আসলে সালমান শাহর জায়গায় তো আরেকবার জন্ম নিলেও যাওয়া সম্ভব নয়। ওই জায়গায় আমি যেতে পারব না। কেউ যেতে পারবে কি না, জানি না। তবে একধরনের অনুপ্রেরণা তো আছেই। তাঁর সিনেমা যখন দেখেছি, তখন আমি অনেক ছোট। অনুপ্রেরণাটা তো পরে নিয়েছি, সেই সময়টায় কিন্তু তাঁর প্রতি ভালোবাসাটাই সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল।

মাহিয়া মাহিওই দিনই তাঁর প্রেমে পড়েছিলাম
মাহিয়া মাহি, চিত্রনায়িকা
সময়টা কখন, মনে নেই। ছোটবেলায় কোনো এক শুক্রবারে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সালমান শাহর একটি ছবির গান শুনে কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলাম। ছবির নামটিও মনে নেই। গানটির শিরোনাম ‘তুমি আমার মনের মানুষ’। গানটিতে সালমান শাহর হাসি, তাঁর অভিনয়, পোশাক, তাঁর স্মার্টনেস দেখে কী যে ভালো লাগছিল! ওই দিনই তাঁর প্রেমে পড়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়, এখন হিরোরা ছবিতে যে ধরনের স্টাইল করেন, তা আগেই করে গেছেন সালমান শাহ। আজ তিনি বেঁচে থাকলে তাঁর বিপরীতে বিনা পারিশ্রমিকে একটা ছবিতে হলেও কাজ করতাম। এ প্রজন্মের শিল্পীরা অনেক কিছুই শিখতে পারতেন তাঁর কাছ থেকে।

নুসরাত ফারিয়াবেশি পড়ার শর্তে তাঁর সিনেমা দেখার সুযোগ পেতাম
নুসরাত ফারিয়া, চিত্রনায়িকা
২০০০ সালের কথা। তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিকেলবেলা বাংলা সিনেমা দেখাত। যে শুক্রবার যদি সালমান শাহর সিনেমা থাকত, সেদিন তো সকাল থেকেই বাসার সবাই ছবি দেখার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আমরা যারা ছোট ছিলাম, তাদের সিনেমা দেখার জন্য বড়রা শর্ত আরোপ করতেন-সিনেমা শেষে বাড়তি এক ঘণ্টা পড়তে হবে। আমরা সালমান শাহর ছবি দেখার জন্য তাতেই রাজি হতাম। সালমান শাহর প্রথম ছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত দেখেই তাঁর ভক্ত হয়েছি। ছবিটি প্রথম দেখি ২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ওই সময় মনে হয়েছিল, একজন অভিনেতা তাঁর প্রথম ছবিতেই এত ভালো অভিনয় করেন! এত স্মার্ট! আজও সালমান শাহ আমার ভালোবাসার নায়ক হয়েই আছেন।

রোশানআমি ভাবি, আমিও এ রকম হব
রোশান, চিত্রনায়ক
‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘পৃথিবীতে সুখ বলে যদি কিছু থেকে থাকে’-সালমান শাহর এমন প্রতিটা গানই আমার কাছে অনুপ্রেরণার। একেকটা গানের জন্য আলাদা আলাদা স্টাইল করতেন তিনি। এখন আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যতই আধুনিক হোক, তাঁর কাছ থেকে শেখা কখনোই শেষ হবে না। এটা আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে একটা অনুপ্রেরণা হিসেবে থেকে যাবে। সালমান শাহর মা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। রাজনীতির সূত্রে আমার বাবার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘ইমন যখন কোনো অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে যেত, সে কখনো মঞ্চে বসত না। সে নিচে দর্শকসারিতে বসে অনুষ্ঠান দেখত। এটা ছিল ওর অভ্যাস।’ আমি ভাবি, আমিও এ রকম হব। আমি জীবনে যতগুলো সিনেমা দেখেছি, তার মধ্যে সালমানের আনন্দ অশ্রু অন্যতম। এই ছবি যখন দেখি, তখনই আবেগপ্রবণ হয়ে যাই।

– প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here