অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন নিয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তই নিবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

0
277

সন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। কেমন হবে নির্বাচনকালীন সরকার ও তার পরিধি, এ নিয়ে দেশের সর্বত্র চলছে জল্পনা-কল্পনা। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), ভোট গ্রহণের অগ্রিম তারিখ ও তফসিল ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক চললেও, অক্টোবরে গঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েই আগ্রহ বেশি রাজনীতিক ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সঙ্গে বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট গ্রহণ হবে এবং দেশে তখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকবে। অনেকে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হবে। কিন্তু আসল বিষয়টা তা নয়। ভোট গ্রহণ হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, যখন কিনা দেশ পরিচালনা করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যারা কি-না রাষ্ট্র পরিচালনায় রুটিন মাফিক কাজ করবে।

কেমন হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাঠামো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০-২৫ সদস্যের অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে এবং এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তই নিবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং কে বা কারা এ সরকারে থাকবেন তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ যুক্তফ্রন্ট বা অন্য কোনো রাজনৈতিক, সুশীল সমাজ বা বিশিষ্টজনরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকবে কি-না, এ বিষয়ে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, সাধারণত সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সদস্যরাই থাকেন। ব্রিটিশ সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কিছুই লেখা নেই। সেখানে পার্লামেন্ট সদস্যদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। ব্রিটেনে এটি একটি প্রথা হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র পদ্ধতিটা হচ্ছে সংসদেরই অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রথা বা মতের সমন্বয়। যা জনপ্রতিনিধি ছাড়া অর্থাৎ সংসদের বাইরের কাউকে নিয়ে তা হতে পারে না। শুধু বাংলাদেশ আর ব্রিটেন নয় ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর প্রায় বেশিরভাগ দেশে এই একই পদ্ধতিতেই নির্বাচন হয়।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে বিএনপিকেও আহ্বান করা হয়েছিলো, কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে আসেনি। যেহেতু বিএনপি গতবার আসেনি, আর এবার তারা সংসদে নেই। সুতরাং নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকে রাখার কোনো সুযোগও নেই।

নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার না হলে বিএনপিসহ বিরোধীরা নির্বাচনে অংশ নেবে কি, এ বিষয়ে ফারুক খান বলেন, ‘আমরা (আওয়ামী লীগ) মনে করি বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তাদের দায়িত্ববোধ থেকে তারা অংশগ্রহণ করবে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, বিএনপি একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক দল। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে তারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের পক্ষে কাজ করা।’

বিএনপির সঙ্গে কোনো আপোস হয়েছে কি সরকারের? বিএনপি নির্বাচনে আসলে বা না আসলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেয়ার ধরনটা কেমন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন হবে আইন ও সংবিধান অনুসারে, এখানে সমঝোতার বিষয় নেই।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কি মুক্তি পাবেন বা নির্বাচনে অংশ নিবেন, এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ এ নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়টি আদালত ও নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি-না, তা আদালতই নির্ধারণ করবে। এ ব্যাপারে সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি দুই আদালতের সাজাপ্রাপ্ত হয়, তবে সাজা শেষ করার পাঁচ বছর পর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

আদালতের সাজাপ্রাপ্তদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ ধারার ঘ-উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার এবং সংসদ সদস্য থাকবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দু’বছর কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।’

২০ দলের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের ঐক্য এবং জাতীয় সরকার গঠন বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সরকার নামের কোনো প্রথা আমাদের সংবিধানে নেই। এ ধরনের সরকার হবার সম্ভাবনা আছে বলে আমি মনে করি না। যুক্তফ্রন্টসহ যেকোনো নির্বাচনে বৃহৎ জোটকে আমরা স্বাগত জানাই, যদি কি-না তাদের আসল উদ্দেশ্য হয় অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচনে অংশ নেয়া। এ ধরনের সকল প্রচেষ্টাকেই আমরা স্বাগত জানাই। তবে আশা করি অতীতের মতো নির্বাচন বানচাল, প্রতিহত বা ষড়যন্ত্র করবে না। যুক্তফ্রন্ট যদি ষড়যন্ত্র করে তবে দেশের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএনপি-জামায়াত অতীতে এমন ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here