অস্থিতিশীল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সংকটের গভীরে কী

0
17

দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে অস্থিরতা। ছাত্র আন্দোলনের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার শান্তিপূর্ণ যে পরিবেশ ফিরে এসেছে তা বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ছাত্র অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো উপাচার্যের দুর্নীতি-অনিয়মের খবর প্রকাশ হওয়ার পরই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করছে। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছে। ছাত্র বিক্ষোভের কারণে বরিশাল ও গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিদায় নিতে হয়েছে।

বুয়েটের (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র আবরারকে ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তরা পিটিয়ে হত্যা করার পর দোষীদের শাস্তির দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়, তার রেশ এখনো চলছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত প্রায় তিন মাস ধরে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগকে বড় অংকের আর্থিক সুবিধা দিয়েছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোর অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, শিক্ষালয়গুলোর অস্থিরতা দূর ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে না পারলে কাক্সিক্ষত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠবে না। শিক্ষার উন্নত পরিবেশ ও মান নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন একসময় পূরণ হলেও তা টেকসই হবে না।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. অজয় রায় বলেন, কেউ কারও উপর দায় না চাপিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আজকে শিক্ষাব্যবস্থায় যে দুরবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, কর্তৃপক্ষকে অনুধাবন করতে হবে। যেখানে, যার বিরুদ্ধেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আসবে, যথাযথ তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোরতা চলমান রাখবেন বলে আমরা আশা করি।

শিক্ষাবিদ হায়াৎ মামুদের মতে, লেখাপড়া ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রধান কারণ শিক্ষায়তনগুলোর ভেতরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী সকলেই এজন্য দায়ী। এ অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র পথ সকলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ থাকতে হবে। পরীক্ষায় ভালো ফল লাভ করলেই ভালো শিক্ষক হওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হলে শিক্ষকের প্রধান কাজ হলো তাদের ভালোবাসা। আমার গভীর সন্দেহ আছে যারা স্কুল-কলেজ ও বিশ্বদ্যিালয়ে পড়াতে যান তাদের ভেতরে শিক্ষার্থীদের জন্য সততা কতোটুকু কাজ করে? করে না, করলে বর্তমান যে অবস্থার মধ্যে শিক্ষায়তন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এমন দুর্গতির মধ্যে পড়তে হতো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here