আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে হস্তান্তর হচ্ছে পাটের তৈরি ব্রিফকেস

0
198

ব কিছু ঠিক থাকলে বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে হস্তান্তর করা হচ্ছে পাটের তৈরি ব্রিফকেস। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের আলোচ্যসূচিসহ প্রয়োজনীয় ডক্যুমেন্টস মন্ত্রীদের কাছে পাঠানোর কাজে এই ব্রিফকেস ব্যবহার করা হবে। এতোকাল মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আলোচ্যসূচিসহ সমস্ত কাগজপত্র চামড়ায় তৈরি কালো রঙয়ের ব্রিফকেসে পাঠানো হলেও এখন থেকে কালো রঙয়ের চামড়ায় তৈরি ব্রিফকেসের বদলে পাটের তৈরি অনেকটা সোনালী রঙয়ের ব্রিফকেসে পাঠানো হবে বৈঠকের আলোচ্যসূচিসহ প্রয়োজনীয় ডক্যুমেন্টস। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনের যে কোনও সময় পাটের তৈরি ৭০টি ব্রিফকেস তুলে দেওয়া হবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের হাতে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহম্মদ শফিউল আলমের দেওয়া সময় অনুযায়ী ব্রিফকেসগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী।

তিনি জানিয়েছেন, আপাতত ৭০টি ব্রিফকেস হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী জানান, আশা করছি মন্ত্রিপরিষদের পরবর্তী বৈঠকের আলোচ্যসূচিসহ প্রয়োজনীয় ডক্যুমেন্টস এই ব্রিফকেসে করেই মাননীয় মন্ত্রীদের দফতরে পাঠানো হবে, যা তারা হাতে বহন করে বৈঠকে যোগ দেবেন। তবে তা পুরোটাই নির্ভর করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের ওপর।

জানা গেছে, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের নিজস্ব উদ্যোগে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
গত ৩ জুলাই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে তিনি প্রস্তাব রাখেন প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে তিনি ৭০টি পাটের তৈরি ব্রিফকেস উপহার হিসেবে দিতে চান। এসময় একটি ব্রিফকেসের নমুনাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দেখান।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মির্জা আজমের হাতে থাকা ব্রিফকেসটি মনোযোগ সহকারে দেখেন এবং তা পাশে উপবিষ্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে দেখানোর জন্য তার হাতে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও তার স্বভাবসুলভ হাসিভরা মুখে ব্রিফকেসটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখেন। সূত্র জানায়, ব্রিফকেসটি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী উভয়েরই পছন্দ হয়েছে এবং তারা দুজনই পাটের এই বহুমুখী ব্যবহার দেখে খুশি হন। প্রধানমন্ত্রী ব্রিফকেসের রঙ ও ডিজাইন পছন্দ করে পাটমন্ত্রী মির্জা আজমকে ব্রিফকেস সরবরাহের অনুমতি দেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যেই বিজেএমসি ৭০টি ব্রিফকেস বানানোর প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ও আগ্রহে এই ব্রিফকেসগুলো মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রচলিত কালো ব্রিফকেসের সাইজেই তৈরি করা হচ্ছে নতুন ব্রিফকেসগুলো। তবে নতুন ব্রিফকেসের উভয় পিঠ পাটের তৈরি মোটা কাপড় দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। ব্রিফকেসের হাতল ও চার পাশের বর্ডার পাটের রঙয়ের চামড়া দিয়ে মজবুত করা হয়েছে। প্রথা ভাঙা হলেও দেখতে চমৎকার ও আকর্ষণীয় নতুন আদলের এই ব্রিফকেসের প্রতি মন্ত্রীদের আগ্রহ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কালো চামড়ায় তৈরি ব্রিফকেসের তুলনায় পাটের আঁশে তৈরি ব্রিফকেসের দামও হবে তুলনামূলক অনেক কম। তবে হস্তান্তরের অপেক্ষায় থাকা ৭০টি ব্রিফকেস পুরোটাই সৌজন্য হিসেবে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here