আজ সৌদি আরবে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে

0
197

মুজদালিফায় রাত যাপন করে হাজিরা রওয়ানা হয়েছেন মিনার উদ্দেশ্যে। মিনায় শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছুঁড়বেন তারা। এখানেই পশু কোরবানি দিয়ে ঈদ উল আজহা পালন করবেন হাজিরা।

মুজদালিফায় আসার আগে গতকাল সোমবার আরাফাতের ময়দানে হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা খুতবায় মুসলিম বিশ্বকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে এক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। খুতবা শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনা করা হয় মোনাজাতে।

সেলাই ছাড়া দু’টুকরো সাদা কাপড় পরে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের দরবারে সোমবার নিজেকে সমর্পন করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা বর্ণের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম।

ইহজগতের সব ইচ্ছা, চাহিদা, আকাঙ্খা বিসর্জন দিয়ে পাপ মুক্তির প্রার্থনা নিয়ে মুসলিমরা তিন দিকে পাহাড় ঘেরা দুই মাইল দৈর্ঘ্য ও দুই মাইল প্রস্থের আরাফাতের প্রান্তরে ছিলেন সোমবার দিনভর।

আরাফাতের এই পবিত্র ময়দানে বিদায় হজে ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। সেই ইতিহাসকে ধারণ করে প্রতি বছর আরাফাত ময়দানে হাজির হন লাখো মুসল্লি। সেখানে সারাদিনই অবস্থান করেন এবং খুতবা শুনে পরে মোনাজাতে শরিক হন সবাই।

এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করছেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতার মূল অনুষঙ্গ, পবিত্র আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছেন মদিনা শরীফের মসজিদে নববীর ইমাম এবং মদিনার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক ড. হুসেইন বিন আব্দুল আজিজ আল আশেঈখ।

নারীদের যথাযথ সম্মান দেয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী এবং অধীনস্থদের হক আদায়ের কথা বলা হয় খুতবায়।

৪২ মিনিটের খুতবা শেষে এবার গত বছরের মতো আনুষ্ঠানিক কোনো মোনাজাত করা হয়নি। তবে খুতবার পরপর প্রত্যেকে নিজেদের অবস্থান থেকে মোনাজাত করেছেন।

এর পরপরই আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। আরাফাতের বিশাল প্রান্তরে হাজিরা সবাই এক সঙ্গে যোহর এবং আসরের নামাজ আদায় করেন।

সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে চলেছে হাজিদের ইবাদত বন্দেগি। যে যার মতো করে দোয়া করেছেন যার যার জায়গা থেকে। সে সময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন অনেকে।

হজের নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে হাজিরা পৌঁছেন পরবর্তী গন্তব্য ৫ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফায়। মুজদালিফার খোলা আকাশের নিচে প্রথম রাত্রিযাপন করেছিলেন প্রথম মানব আদম (আ.) এবং হাওয়া (আ.)।

আত্মউপলব্ধির এই জায়গায় মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সেখানেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন আল্লাহর এই মেহমানরা। সেখান থেকেই শয়তানকে ছোঁড়ার প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করেন তারা।

ভোরে মুজদালিফায় বালি আর পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে শয়তানকে পাথর ছোঁড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মিনার দিকে। ৩ দিন মিনায় অবস্থান করে শয়তানকে পর্যায়ক্রমে পাথর ছুঁড়বেন হাজিরা।

এরপর পশু কোরবানি করে পালন করবেন পবিত্র ঈদুল আজহা। বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হবে বুধবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here