আদালতে খালেদা জিয়ার না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক

0
184

দালত যা খুশি রায় দিক। দেশমাতা খালেদা জিয়া বলে দিয়েছেন তিনি আর আদালতে যাবেন না। এটি দেশমাতার সঠিক, সময়োচিত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এর বাইরে আসা যাবে না। সরকারের আজ্ঞাবহ আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে না তা সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কুমিল্লা আদালতও জামিন দেয়নি। তারপরেও যদি আমাদের আইনজীবীদের হুঁশ না হয় তাহলে আর কিছু বলার নেই। দেশমাতার সকল মামলা রাজনৈতিক। রাজনৈতিক মামলা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এখানে আইনি লড়াইয়ের বরং কোনো কাজ হবে না। আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মামলাগুলোর সুরাহা করতে। দুর্ভাগ্য যে তাদের সেই আইনি লড়াইয়ের প্রচেষ্টা সরকারকে সুযোগ করে দিয়েছে প্রমাণ করতে যে, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই দেশমাতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই দেশমাতার জামিন কখনো দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনো নামঞ্জুর করা হচ্ছে। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে জামিন জামিন খেলা হচ্ছে। এই পর্যন্ত যতগুলো জামিন দেওয়া হয়েছে, একে একে তার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় এখন আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করবেন। ইতিমধ্যে মূল মামলার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু কুমিল্লা জামিন মঞ্জুর করেনি তাই দেশমাতার জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ঝুলে গেল। দেশমাতা আদালতে যাবেন না বলার পরেও আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা মূল মামলার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করার আবেদন করেছেন তাতে আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা সরকারের আইনি ফাঁদে পা দিয়েছেন। আদালত সময় ক্ষেপন করার জন্য জামিনের শুনানির তারিখ আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পিছিয়ে দিয়েছেন। কারণ উচ্চ আদলতে কুমিল্লা জামিন না মঞ্জুরের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করলে হয়তো জামিন পাওয়ার একটি সম্ভাবনা হবে তখন আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা দেশমাতাকে তার অবস্থান থেকে সরে এসে জামিনের স্বার্থে আদালতে যেতে বাধ্য করতে পারে। ফলে একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের সুযোগ আইনজীবীরা নষ্ট করে দিবে যা সরকারের অতিব কাম্য।

সরকার কোনো অবস্থাতেই দেশমাতাকে মুক্তি দিবে না। এখন জামিন জামিন খেলে আদালতের উপর দিয়ে এবং আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীদের আইনি লড়াইয়ের বরং ধরে সময় পার করে দিবে। আমাদের আইনজীবীরা যতই আইনি লড়াইয়ের বরং ধরুন না কেন, সরকার আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দেশমাতাকে আরও সাজা দিবে এবং বাকি জীবন দেশমাতাকে কারাগারে বন্দি করে রাখবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

যদি দেশমাতা আদালতে না যায় এবং কোনো আইনজীবী দেশমাতার পক্ষে তথাকথিত আইনি লড়াই না করে তাহলে সরকারকে জোর করে দেশমাতাকে আদালতে নিয়ে বিচার করতে হবে এবং সেই বিচারকে আইনি লড়াই সাজানোর জন্য সরকারকে দেশমাতার পক্ষে আইনজীবীও নিয়োগ করতে হবে। দেশমাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাজানো মামলায় সাজানো আদালতে উভয় পক্ষে সরকারের আইনজীবীদের সাজানো বিচার প্রক্রিয়ায় দেওয়া সাজা কখনোই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশমাতা খালেদা জিয়ার সকল মামলা রাজনৈতিক এবং তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। দেশমাতার মুক্তি হবে রাজপথে। রাজপথ ছাড়া দেশমাতার মুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here