আবদুন নূর তুষার: পুলিশের চাকরি অত্যন্ত কঠিন শারীরিক ও মানসিক চাপের

0
27

আবদুন নূর তুষার: একজন মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করেছেন। তথাকথিত একটি মানসিক হাসপাতালে যার কোনো অনুমোদন নেই। তড়িৎ অপরাধ দমনের ব্যবস্থা হতে দেখছি। দোষী ব্যক্তিদের আইনানুগ সাজা হোক। কিন্তু সেই অফিসার তো আর ফিরবেন না। একটি মূল্যবান প্রাণ তো ঝরে গেলো। চিকিৎসায় যা হয়তো রক্ষা করা যেতো।

এরকম মানহীণ হাসপাতাল কী একটাই? এই মানহীন অবৈধ হাসপাতালগুলো কীভাবে রাজধানী ঢাকা শহরে চলছে দিনের পর দিন। তাহলে সারা দেশের কী অবস্থা? এই হাসপাতালে রোগীকে প্রহার করা কী সেদিনই প্রথম। মোটেও না। এরকম তারা বহুজনের সাথে করেছে। তাদের কথা আমরা জানি না। কার প্রশ্রয়ে কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো চলে? যারা প্রহার করলো রোগীকে তাদের সাথে সাথে কী তারাও দায়ী নয় যারা তাদের চোখের সামনে এই ভন্ড প্রতারক অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতে দিয়েছে।

রোগীর আত্মীয় কেন তাকে এই জঘন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গেলো? মানসিক রোগীদের এভাবে কেন আপনজনেরাও মানহীন জায়গায় নিয়ে যান, কেন এই অবহেলা? এর কারণ অজ্ঞতা অথবা মানসিক রোগীকে নিজেদের জীবন থেকে দূরে রেখে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার প্রবণতা।

কারণে একজন মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা এভাবে মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। পুলিশের চাকরি অত্যন্ত কঠিন শারীরিক ও মানসিক চাপের চাকরি। পুলিশ হাসপাতালে মানসিক রোগের কী ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। পুলিশ হাসপাতালে মোট কতোজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ আছেন।

দেশে প্রতিবছর মোট কতোজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ পাস করে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন। উপজেলা ও সদর হাসপাতালে কয়টি পদ তাদের জন্য রয়েছে? তাদের জন্য আদৌ কী সুবিধাদি আছে।

মানসিক রোগগ্রস্ত ব্যক্তি কী কেবল পুলিশেই পেলেন প্রথম। সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কী মানসিক রোগগ্রস্ত বা বিকারগ্রস্ত মানুষ নেই? টাকনুর ওপরে প্যান্ট পরার নির্দেশ দিলেন যে ব্যক্তি তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে কী প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি তো জানার কথা সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে নির্দেশ দেওয়া যায় না। নিয়মিত মানসিক রোগের অ্যাসেসমেন্ট হয় কর্মকর্তাদের। গোড়ার গলদের চিকিৎসা না করে, গলদজনিত ফলাফল নিয়ে ব্যস্ত হলে এরকম বারবার ঘটবে। এই সব অন্যায় থেকে আমরা মুক্তি পাবো না। আবার কেউ না কেউ একই অবিচারের, অবহেলার, দুুর্ঘটনার শিকার হবে। নাপিতের ফোঁড়া কাটার মতো সমস্যা সমাধান কেবল বিচার করে হয় না। দীর্ঘমেয়াদে এরকম যাতে না ঘটে তার জন্য কী ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, সেটা চিন্তা করা দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here