আবারো লোকশানের পথে রাষ্ট্রয়াত্ত বেসিক ব্যাংক

0
134

নিয়মে জর্জরিত রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক আবারো লোকশান গুণতে যাচ্ছে। বছর শেষে এর পরিমান ১’শো কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। গত বছর ব্যাংকটির ৬৮টি শাখার মধ্যে ২১টি শাখায় লোকশান গুণলেও চলতি বছর শেষে বেশিরভাগ শাখাই লোকশানে থাকতে পারে। তাই দায় এড়াতেই পদত্যাগ করেছেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম ডি) মুহাম্মদ আউয়াল খান, এমন গুঞ্জন হচ্ছে ব্যাংক পাড়ায়। বহাল রয়েছে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে থাকা অনিয়মের অভিযোগ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংকের চলতি বছরের অবস্থাও তেমন একটা সুবিধা নয়। খেলাপিতে থাকা এই ব্যাংকটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে ব্যর্থ। আবার আস্থাহীনতার কারণে আশানুরুপ আমানত পাচ্ছে না। ফলে তাদের তারল্য সঙ্কটও প্রকট। তারল্যের জন্য প্রায়ই তাদেরকে কল মানি মার্কেটের দারস্থ হতে হয়।সব মিলিয়ে ব্যাংকটি এখনো ধকলের মধ্যে রয়েছে।কিভাবে সঙ্কট কাটাতে পারবে সেটা নিয়ে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকও মহা চিন্তায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত চার বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের লোকসান হয়েছে দুই হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ৬৮ শাখার মধ্যে ২১টি শাখাই লোকসান গুনেছে।২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর আমলের চার বছরে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা বের করে নেয়া হয়।বর্তমানে ব্যাংকটির দেয়া ঋণের ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশই খেলাপি।এখন তাদের মোট খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংকের একজন পরিচালক জানান, তাদের বর্তমান অবস্থা আগের থেকে অনেকটা ভালো হলেও সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারছে না। তারল্য না থাকায় ও খেলাপি আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় লোকশান চলছেই। তার উপরে এখন আবার যোগ হয়েছে সিঙ্গেল ডিজিটের সুদের হার।এই আইনের কারণে তাদের সঙ্কট আরো ঘনিভূত হয়েছে।

ওই পরিচালক জানান, তারল্য বৃদ্ধির জন্য বছরের শুরুতে বেসিক ব্যাংক চমকপ্রদ সুদে আমানত সংগ্রহ করে। কিছু আমানত তারা ৯ শতাংশেরও উপরে সংগ্রহ করেছে। আবার আমানতের বিপরীতে তাদের খরচও অন্যদের তুলনায় বেশি। ৯ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করলে ব্যাংকের খরচও উঠবে না। ফলে ব্যাংকটির বড় ধরণের লোকশান অবধারিত। এই কারণেই হয়ত তাদের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগ বলে মনে করেন তিনি।

ঠিক কি পরিমাণ লোকশান দাঁড়াতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই পরিচালক জানান, সেটা এই মূহুর্তে সঠিককরে বলা যাচ্ছে না। তবে বছর শেষে একশো কোটি টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩০ তারিখে বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হবে। তখন হয়ত একটা আনুমানিক ফিগার বলা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানায়, অনেক আগে থেকেই তারা বেসিক ব্যাংকের খেলাপি আদায়ের ব্যাপারে তাগিদ ও সহযোগীতা করে আসছে। একইসাথে যাতে নতুন করে কোনো অনিয়ম না হয় সেদিকেও কড়া নজরদারি করে আসছে। ব্যাংকটি অতীতে এতই অনিয়ম করেছে যে, রাতারাতি এর উত্তরণ সম্ভব না। তবে খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পারলে তাদের সুদিনে ফিরা সহজ হবে না।

বেসিক ব্যাংককের এমডি মুহাম্মদ আউয়াল খান এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মজিদ জানান, এমডি পদত্যাগপত্রে লোকশানের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। আগামী বোর্ড মিটিংয়ে এ নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হবে। তখন জানা যাবে ঠিক কি কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কি না সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই ব্যাংকটি নিয়ে এখন আর ঘোলাপানি করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এটিকে অন্য একটি ব্যাংকের সাথে সংযুক্ত করে দিলে লোকশান এবং অনিয়ম দুটোই কমবে। জনগণের অর্থ এভাবে নষ্ট করার অধিকার কারো নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here