আবু বকর চৌধুরীকে সাংবাদিকদের শেষ শ্রদ্ধা

0
224

বিনম্র শ্রদ্ধায় মানবকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবু বকর চৌধুরীকে বিদায় জানালেন তাঁর বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীসহ সর্বস্তরের সাংবাদিকরা। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আবু বকর চৌধুরীর মরদেহ আনা হলে প্রেসক্লাবজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চেনা অচেনা সব মুখ ছুটে আসেন সেখানে। বেলা আড়াইটার দিকে তাঁর জানাজায় অংশ নেওয়ার পর সতীর্থ, সহকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে নিজ বাসায় গুরুতর অসুস্থবোধ করায় ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আবু বকর চৌধুরীকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানান, ভোরে ধানমণ্ডির বাসায় আবু বকর চৌধুরী স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তাঁর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণা করেন মানবকণ্ঠের প্রকাশক ও উপদেষ্টা সম্পাদক জাকারিয়া চৌধুরী, লুপ্ত দৈনিক আজকের কাগজের আবু বকর পরবর্তী নিউজ এডিটর খালেদ ফারুকী, বিএফইউজের ওমর ফারুক চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সমকালের চিফ রিপোর্টার লোটন একরামসহ অন্যরা।  সঞ্চালনা করেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।

প্রেসক্লাবে আবু বকর চৌধুরীর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো

মানবকণ্ঠের প্রকাশক ও উপদেষ্টা সম্পাদক জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বকর ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী, নির্লোভ, দায়িত্ব সচেতন এবকজন কর্মঠ সাংবাদিক। তিনি চলে যাওয়াতে আমি আমার আপন ভাইকে হারিয়েছি।’

আবু বকর চৌধুরীর আরেক সাবেক সহকর্মী খালেদ ফারুকী বলেন, ‘অসম্ভব ভালো মানুষ ছিলেন বকর ভাই। সবসময় হাসিখুশি থাকতেন। তার কাছ থেকে আমরা সাংবাদিকতার অনেক কিছু শিখেছি। সবাইকে কাছে টানতে পারতেন তিনি। এমন মানুষকে হারিয়ে আমি আমার একজন অভিভাবককে হারালাম।’

সমকালের চিফ রিপোর্টার ও আবু বকর চৌধুরীর সাবেক সহকর্মী লোটন একরাম বলেন, বকর ভাই এমনই মেধাবী মানুষ ছিলেন যে তিনি চাইলে রাজনীতি, রিপোর্টিং, অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব সেক্টরে অসাধারণ উন্নতি করতে পারতেন। কিন্তু, তিনি তার দায়িত্বশীলতার জায়গাটিতেই অটল ছিলেন। তাই আর কিছু না করে তিনি শুধু সাংবাদিকতাকেই নিজের ধ্যান জ্ঞান করে গেছেন।

সঞ্চালনার ফাঁকে আবু বকর চৌধুরীকে সহকর্মী হিসেবে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সোহেল হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বকর ভাই (আবু বকর চৌধুরী) সবার আপন ছিলেন। যখন যে হাউসে  কাজ করেছেন সেখানেই সম্পূর্ণ নিবেদিত হয়েই কাজ করেছেন। সবাই তাকে খুব পছন্দ করতেন। খুব ভালোবাসতেন।  তিনিও সবাইকে খুব কাছে টেনে নিতে পারতেন। তার কাছে তরুণ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খন্দকার মোজাম্মেল হক শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বলেন, সোহেল হায়দার চৌধুরী ভাই যখন আজ সকালে আমাকে ফোন করে বললেন বকর ভাই আর নেই, তখন আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। তার সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলতে পারবো না। শুধু এতটুকুই বলছি, তার সান্নিধ্যে যতদিন আমি ছিলাম, স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে উনি আমাদেরকে ধরে রেখেছেন সন্তানের মতো করে। সবাইকে অনুরোধ করি, কারো মধ্যে যদি বকর ভাই সম্পর্কে রাগ ক্ষোভ থেকে থাকে তবে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।  আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।

আবু বকর চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, উনার সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই, আপনারা উনার সম্পর্কে সবই জানেন। সহজ সরল মানুষ ছিলেন। ডাক্তারের কাছে পর্যন্ত যেতেন না। জোর করে নিয়ে যেতাম আমরা। আমার মা বলতো এটা আমার লক্ষ্মী ছেলে। যদি উনার কথায় কেউ কখনও কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে উনাকে মাফ করে দিয়েন এবং দোয়া করবেন।

জানাজা শেষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জেমকন গ্রুপের চেয়ারম্যান কাজী শাহেদ আহমেদ এবং জেমকন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ এর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এর আগে বাদ জোহর ধানমণ্ডির বাসার পাশের মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে আবু বকর চৌধুরীর মরদেহ আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here