আমাদের দেশে ৯০ শতাংশ মানুষ আইন মানে না

0
208

বৃষ্টি আকতারঃ রাজধানীবাসীর মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা রয়েছে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন: রাজধানীর শতকরা ৯০ জন ট্রাফিক আইন মানে না, মাত্র দশজন মেনে চলে। তারপরও আমরা গড়ে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা ধরে কঠিন কাজটি করে যাচ্ছি।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন: বিশ্বর অন্যান্য দেশে শতকরা ৯৮ জন লোক আইন মানে,আর দুইজন মানে না। আর আমাদের দেশে ৯০ জন আইন মানে না, দশ জন মানে। তারপরেও আমরা কঠিন কাজটি করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র ট্রাফিক আইন প্রণয়ন করে যানজট সমস্যা দূর করা যাবে না, নাগরিক ও গাড়ির মালিকদের সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

নাগরিকদের ফুটওভারব্রিজ মেনে রাস্তা পারাপার করতে হবে। অন্যদিকে দেখা যায় গাড়ির মালিকরা ড্রাইভারদের সঙ্গে মাসিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। তারা চালকদের মাস শেষে টাকার সংখ্যা জানিয়ে দেয়।

আমরা গাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলছি যেন তারা ড্রাইভারদের মাসিক বেতনে নিযুক্ত করে। তাহলে চালকদের গাড়ি চালাতে গিয়ে রেষারেষি প্রবণতা কমে আসবে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় চারটি বিষয় সংশ্লিষ্ট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এনফোর্সমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভারোনমেন্ট এবং এডুকেশন। এর মধ্যে এনফোর্সমেন্টের বিষয়টা পুলিশের দেখার কথা। বাকিগুলো দেখার জন্য সরকারের অন্যান্য বিভাগ রয়েছে। কিন্তু এন্ড অব দ্য ডে যে কোনটার ব্যত্যয় ঘটলেই সকল দায় ট্রাফিক পুলিশের উপরই বর্তায়। তারপরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

যেমন বাস বে কিংবা টার্মিনালের বিষয়টা সিটি করপোরেশন বা সড়ক বিভাগ দেখবে। ট্রাফিক সিগনালের বিষয়টাও সিটি করপোরেশন দেখে। তাই আমরা মনে করি, সংস্থাগুলোর সমন্বয় আরো জোরদার করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

ট্রাফিক পুলিশের চলমান অভিযানের কারণে মামলা এড়াতে রাস্তায় গাড়ি থাকছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে গাড়ি থাকবে কি থাকবে না, এটি আমার সাবজেক্ট না। ফিটনেস বিহীন গাড়ি রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না, লাইসন্স ছাড়া কোন চালক গাড়ি চালাতে পারবেন না। অতীতে এসব বিষয়ে ছাড় দিতে গিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়ে বিশৃঙ্খলা বাড়াতে চাইনা।

এজন্য অন্য সংস্থা রয়েছে। যেমন- বিআরটিএ’র কাজ গাড়িকে ফিট করে রাস্তায় নামানো বা চালকের আরো বেশি লাইসেন্স ইস্যু করা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজধানীতে ৫০টি বাসের রুট পারমিট রয়েছে, কিন্তু বাস চলছে ২০০টি। কিন্তু এগুলো চলতে দেয়া যায় না, আমরা চেকপোস্ট বসিয়ে এগুলো তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছি। বাইপাস করে যেসব গাড়ি ঢাকার ভেতর দিয়ে যাতায়াত করে, সেগুলোর নতুন করে পারমিশন দেওয়া হচ্ছে না। বরং পুরানোগুলোর পারমিশন বাতিল করতে সুপারিশ করা হয়েছে।

যানবাহন নিয়ন্ত্রন করতে স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা আরো কঠোর হবো। সিএনজি চালিত অটোরিক্সা এবং গণপরিবহনের কোনটিই নিয়ম অমান্য করে চলতে পারবেনা।

রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিক, হেলপার ও চালকদের বিরুদ্ধে ৩০৪ ধারায় মামলা হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন, এভিডেন্স সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে তাদের কৃত অপরাধ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতোপূর্বে পুলিশের বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু হলেও তা টিকে থাকেনি, এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপনি সাথে থাকুন, জনগণ সাথে থাকুন। নিজে আইন মানুন, অন্যকে আইন মানতে উদ্বুদ্ধ করুন, কোন উদ্যোগই হারিয়ে যাবে না। জঙ্গি দমনের মতো মাদক দমনেও আমরা সফল হবো। ঠিক তেমনিভাবে সকলের সহযোগিতা পেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও আমরা সফল হবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here