আমার প্রথম মুগ্ধতা, ভালোবাসা :  জহির রায়হানের আজ জন্মদিন

0
293

সেই ছোটোবেলা থেকে বড়মামার (পি এ কাজল) কাছে জহির রায়হানের গল্প শুনতাম। আগে বলে নেই, আমি ছিলাম বড়মামার বিশ্বস্ত শ্রোতা, ছোটো বলে কখনও আমাকে আন্ডারএস্টিমেট করেননি। বরং রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প কিংবা চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি আমার সঙ্গে সহজিয়া ভঙ্গিতে আলোচনা করতেন।

জহির রায়হান নিয়ে বড়মামা যখনই বলতেন খেয়াল করতাম তার মধ্যে একধরনের বিহ্বলতা কাজ করতো। হয়তো সে কারণে শৈশবেই তিনি আমার মনে প্রোথিত হয়ে গেছিলেন। তাই তার জীবনের ঘটনাগুলো গল্পের মতোই মনে হতো। কত কম সময়ে পাকিস্তান আমলে তিনি একটি সিনেমা বানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র বানানো, কীভাবে জীবন থেকে নেয়া বানিয়েছেন, জীবন থেকে নেয়া নিয়ে সত্যজিৎ রায় কি বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান বা কীভাবে তিনি জহির রায়হান হয়েছিলেন এসব বড়মামার মুখ থেকেই বিভিন্ন সময়ে শোনা। সে যেন এক রূপকথা, তিনি রাজপুত্র।

অনেক পরে ক্লাস নাইনে সময়ের প্রয়োজনে পাঠ্যবইয়ে পাই। তার লেখার সাথে প্রথম পরিচয়। একটা ধাক্কা লাগে।

“তাহলে কিসের জন্য লড়ছি আমরা?… শুধুমাত্র বেঁচে থাকার তাগিদে। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে। অথবা, সময়ের প্রয়োজনে।”

জানিয়ে রাখি, তখন আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলছিল। কৈশোরের প্রথম ধাক্কা। ক্লাস টেনে প্রথম হওয়ার সুবাদে স্কুল থেকে পাই বরফ গলা নদী। এরপর ইন্টারমিডিয়েটে একুশের গল্প, হাজার বছর ধরে। অনেক কেঁদেছিলাম, অনেক।

অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে আজিজ থেকে কিনলাম তার গল্পসমগ্র, উপন্যাসসমগ্র। শব্দচয়ণ, বাক্যগঠন, পটভূমি… মুগ্ধতা মুগ্ধতা মুগ্ধতা…

গতবছর ‘হঠাত বাবার পঁচিশ পাতায়’ পড়লাম, মুগ্ধতা এবং তাঁকে জানার আগ্রহ আরও বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তার জন্মবার্ষিকী নিয়ে লেখা তৈরির জন্য আর্কাইভে গিয়েছিলাম। অনেক অনেক তথ্য পেয়েছি, সংগ্রহ করেছি। তার অন্তর্ধান রহস্যের একটি দিশা নির্ণায়ক জুলফিকার আলি মাণিক ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আশা রাখি উনাকে নিয়ে একটি ভালো কাজ করতে পারবো কোনো একদিন।

(প্রিয়াংকা আচার্য্য,র ফেসবুক থেকে নেয়া)

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here