আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে পরবর্তী জাহাজ আসছে

0
338

হুল আলোচিত এলএনজি জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সংকট কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এদিকে পাইপ লাইনে এলএনজির সরবরাহ ঠিক রাখতে এলএনজি ভর্তি জাহাজের দ্বিতীয় চালান আসছে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। এই জাহাজে আসবে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার তরলীকৃত গ্যাস। খবর দায়িত্বশীল সূত্রের।

এলএনজি গ্যাস জাতীয় গ্রীডে যুক্ত করতে ইতিপূর্বে মহেশখালি থেকে ৯১ কিলোমিটার সাগরের নীচ দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। কর্ণফুলি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) এই পাইপলাইন নির্মাণের কাজ করে। এই পাইপলাইনে দিয়ে এলএনজি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এসে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়েছে। সূত্রমতে, গ্যাসের পুরোমাত্রায় সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে কর্ণফুলি থেকে সীতাকুন্ডু পর্যন্ত আরও ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে।

আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, মাতারবাড়ি টার্মিনাল থেকে তরল গ্যাসকে গ্যাাসিফাই করে পাইপলাইনে ঢুকানো হলেও চাহিদা মত গ্যাস দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। মোট ৫০০ মিলিয়ন গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাইপলাইনে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এই পরিমান আগামী মাসে আরও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়বে। এভাবে কিছুদিনের মধ্যেই তা ৫০০ মিলিয়নে উন্নীত হবে। আর তখন দেশের গ্যাস সংকট অনেকাংশেই কেটে যাবে। আর তখন মাসে দুটি করে জাহাজ এলএনজি নিয়ে আসবে।

এলএনজি ভর্তি প্রথম জাহাজে ১ লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরলীকৃত গ্যাস আমদানি করা হয়েছিল যা ইতিমধ্যেই জাতীয় গ্রীডে সরকরাহ করা হচ্ছে। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট কিন্তু পেট্রোবাংলা সরবরাহ করতে পারছে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এলএনজি থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা শুরু হলে গ্যাসের চাহিদা অনেকটাই সমাধান হবে।

এদিকে এনএলজি আমদানির ফলে বিদ্যুতে সরকার ভর্তুকি বাড়াবে কিনা জানতে চাইলে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এনএলজি আমদানির ফলে বিদ্যুতে ভর্তুকি বাড়বে না তবে বিদ্যুতের দাম সহনীয় থাকবে। বিদ্যুতের দাম কামানো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বার্ক)-এর ওপর নির্ভর করে। আমরা আমাদের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি। জনগণের ওপর যেন কোনও চাপ না পড়ে সেদিকে নজর রেখেই আমরা প্রস্তাব দিয়েছি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এলএনজি দিয়ে সাময়িক ভাবে গ্যাস সংকট মোকাবেলা করা হলেও এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। এজন্য আমাদের অনসর এবং অপসর ব্লকগুলোতে ব্যাপক ভাবে অনুসন্ধান চালাতে হবে। কারণ গ্যাসের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে তা শুধুমাত্র এলএনজি দিয়ে মেটানো সম্ভবপর নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here