আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেফতার প্রক্রিয়া নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রশ্ন, উদ্বেগ ও মুক্তি দাবি

0
318

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী সাংবাদিক শহিদুল আলমের গ্রেফতার প্রক্রিয়া, হেনস্থা ও পরবর্তীতে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন অভিযোগ ওঠায় নাগরিক সমাজসহ সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নির্যাতনের যে বর্ণনা শহিদুল আলম দিয়েছেন তাতে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না এ নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

এ প্রসঙ্গে গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেন, শহিদুল আলম পুলিশি হেফাজতে তাকে নির্যাতনের যে অভিযোগ করেছেন তা যদি সত্য হয় তাহলে তা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতির বিষয়। কাউকেই অন্যায়ভাবে টর্চার করা উচিত নয়। কোন পরিস্থিতিতে কী হয়েছে জানি না। কিন্তু এখানে পুলিশ যখন কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যায় তখন অনেকের ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মোটামুটিভাবে যারা প্রতিষ্ঠিত তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এরকমটি হয় না, যদি শহিদুল আলমের সঙ্গে এরকমকটি সত্যিই ঘটে থাকে তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, সমস্ত সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা জানাই। আলোকচিত্রী সাংবাদিক শহিদুল আলমকে যেভাবে হেনস্থা করা হলো, যেভাবে গ্রেপ্তার, শারীরিক-মানসিকভাবে হয়রানি করা হলো তা খুবই নিন্দনীয়। যারা তার সঙ্গে নিপীড়নমূলক আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। অবিলম্বে তার মুক্তি দেওয়া উচিত।

চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেন, শহিদুল আলম আল জাজিরা টেলিভিশনে যা বলেছেন সে সম্পর্কে সবাই জানেন। এখন এটি আইনের আওতায় চলে গেছে। ফলে এখানে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি যা বলেছেন নিজের দায়িত্বে বলেছেন, জবাবদিহিতাও তিনি নিজেই করবেন। তিনি যদি হেনস্থার শিকার হয়ে থাকেন তাহলে কোর্টে যাবেন, মামলা করবেন, নাগরিক অধিকার তার আছে। দেশে আইন আছে, আইন অনুযায়ী সবকিছু চলবে, আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

দৈনিক আমাদের নতুন সময় সম্পাদক ও প্রকাশক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, আলোকচিত্রী সাংবাদিক শহিদুল আলমকে হয়রানি ও পুলিশি নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনায় আমি চরম হতাশা বোধ করছি, স্বাধীন দেশে এমন ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। তিনি আইনবহির্ভূত কোনো কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান থাক। আইন আইনের গতিতে চলুক, একইসঙ্গে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, গত বেশ কয়েকবছর ধরে আমরা লক্ষ করছি, যে প্রক্রিয়ায়, যে পদ্ধতিতে মানুষকে উঠিয়ে নেওয়া হয়, তারপর আর তাদের খবর পাওয়া যায়নি, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় শহিদুল আলমকে দুদিন আগে তার বাসা থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আলোকচিত্রীকে যে পদ্ধতিতে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল তার বাসা থেকে, সেটি অগ্রহণযোগ্য ও আইনের ব্যত্যয় বলে মনে করি আমি। স্বাধীন, গণতান্ত্রিক সমাজে এ পদ্ধতি অনুসরণ করার কোনো সুযোগ নেই। যে সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তা বা নিরাপত্তা বাহিনী এ ধরনের আইনবহির্ভূত কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সরকার প্রতি অনুরোধ ও আহ্বান জানাচ্ছি।

সিপিবি সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শহিদুল আলমকে হেনস্থা ও নির্যাতনের ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়েছি। একইসঙ্গে আমি ক্ষুব্ধ। তাকে যেভাবে টেনে-হিঁচড়ে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, নিজের উপর টর্চারের যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তা যদি সত্যি হয় এর চেয়ে নির্মমতা আর হতে পারে না। ঘটনা যদি সত্যি হয় সরকারের উচিত হবে, যারা তাকে নির্যাতন করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ডাকাও যেতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু একজন মানুষকে এভাবে রাতের বেলায় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, পরে টর্চার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here