ইশতেহার পূরণে মনোযোগী হতে দলের নেতাদের তাগিদ শেখ হাসিনার

0
78

আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে এই আহ্বান জানান তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথসভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘প্রত্যেকের যার যার বিষয়ভিত্তিক দায়িত্বটা পালন করা দরকার। নির্বাচনি ইশতেহারে যে ঘোষণাগুলো দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা যথাযথ কিনা, তা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সেগুলো আলোচনা করা উচিত। যেহেতু আমরা সরকারে আছি সেহেতু কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা আমরা নতুন করে গ্রহণ করেছি। যেটা প্রথমবার নিয়েছিলাম ২০১০ থেকে ২০২০ এই ১০ বছর মেয়াদি। এবার গ্রহণ করেছি ২০২১ থেকে ২০৪১ পর্যন্ত, আমরা বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের দেখা উচিত, কার কী ইস্যু আছে তা বুঝে নিয়ে কাজ করা উচিত।’

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে থমকে যাওয়া সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এখন সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। করোনার কারণে অনেক জায়গায় সম্মেলন হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এখন সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ দলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বারবার আমাদের ভোট দিয়েছে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে। আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আজ আমাদের রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ ভাগ টার্গেট করেছিলাম। এপ্রিল পর্যন্ত আমরা এখন ৭ দশমিক ৮ অর্জন করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে কমে গেছে। এরপরও অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটা ভালো অবস্থানে আছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রণোদনা দিয়েছি। একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। সেখানে আমরা বিনিয়োগ করতে চাই। সেখানে আমরা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি। কাজেই আমরা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। সেটা যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয় এবং সারাদেশে যে উন্নয়নের কার্যক্রম নিয়েছি সেটা যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছেন বাংলাদেশকে নিয়ে সেটা পূরণ করতে চাই। ভূমিহীন মানুষকে ভূমি ও ঘর আমরা করে দেবো। কোনও এলাকায় এমন কেউ থাকলে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। যাদের ভিটা আছে ঘর করার টাকা নাই। তাদেরও আমরা সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও হল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, পাবলিক লাইব্রেরি, শহীদ মিনার, নতুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রশিক্ষণ ভবনসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আধুনিয়কায়ন এবং নতুন প্রজন্মের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে বাংলাদেশের ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ অভিহিত করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। বক্তব্য দেওয়ার সময়ে সীমিত আকারে তার জন্মদিন পালনের অনুমতি চান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জন্মদিন পালনের দরকার নেই। আমি এমনিতেই জন্মদিন পালন করি না।’

দলীয় কার্যালয়ে এসময় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here