ইসলামে প্রবীণদের মর্যাদা

0
200

তকাল ১ অক্টোবর ছিল আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের স্মরণ পরম শ্রদ্ধায়’। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ প্রতি বছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবীণদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালন শুরু হয়।

আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থাৎ পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনে প্রবীণদের অবদান অপরিসীম। তাই তাদের সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হবে। তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হলে আগামী প্রজন্মও আমাদের মূল্যায়ন করবে। প্রবীণদের সম্মান করা বিষয়ে অনেক হাদিস এসেছে। একটি হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করল, আল্লাহপাকও অন্যের দ্বারা তাকে সম্মান করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)

পিতা-মাতা অকৃত্রিম বন্ধু ও আমাদের প্রতি পরম দয়াবান। পৃথিবীতে তাদের মতো আর কেউ নেই। অন্যদের বন্ধুত্বে কোনো স্বার্থ থাকতে পারে; কিন্তু পিতা-মাতার স্নেহ-মায়া ও দান-দয়ায় কোনো স্বার্থ নেই। সন্তানের প্রতি তাদের দরদ স্নেহ ও দয়া হয় নির্মল ও নিষ্কলুষ। সৃষ্টির মধ্যে তাদের মতো দরদি আর কেউ থাকার প্রশ্নই আসতে পারে না। তাই প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় ইসলামী দর্শনই যথার্থ। আল্লাহর নির্দেশ, ‘পিতা-মাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে। তোমাদের সামনে তাদের একজন বা উভয়েই যদি বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদের প্রতি ‘উহ্!’ শব্দটিও উচ্চারণ করবে না। তাদের সঙ্গে কর্কশ ভাষায় কথা বলবে না। তাদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে বিনয়ের হাত প্রসারিত করে দেবে। আর তাদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘হে প্রভু! তাদের ওপর সদয় হোন। যেমন শিশুকালে তারা আমাদের প্রতি সদয় ছিলেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিন বান্দা যখন চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হন, তখন আল্লাহপাক তার হিসাব-নিকাশ সহজ করে দেন। যখন ষাট বছরে উপনীত হন, তখন আল্লাহ তাকে আল্লাহভীরুতা দান করেন। যখন সত্তর বছরে উপনীত হন, তখন আসমানের অধিবাসীরা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। যখন তিনি আশি বছরে উপনীত হন, আল্লাহ তখন তার ভালো কাজগুলোকে সুবিন্যস্ত করে দেন এবং খারাপ কাজগুলো মিটিয়ে দেন। আর যখন তিনি নব্বই বছর বয়সে উপনীত হন, তখন আল্লাহপাক তার আগের-পরের সব গুনাহ মাফ করে দেন, তার পরিবারের জন্য সুপারিশ করার অধিকার প্রদান করেন এবং আসমানে তার নামের সঙ্গে লেখা হয়- ‘এই বান্দা পৃথিবীতে আল্লাহর জন্য আবদ্ধ।’ (মুসনাদে আহমদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here