ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম

0
192

ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম- দ্বীনে ফিতরাত। আল্লাহপাক মানুষকে যে সহজাত প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তা-ই ‘ফিতরাত’। হাদিসে এসেছে, প্রতিটি শিশুই সহজাত প্রকৃতি তথা ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করে।

এখানে ফিতরাত বা ইসলামের কথা উল্লেখ করে হিদায়াত গ্রহণের যোগ্যতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ কারণেই প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুপ্ত শক্তির সামনে আত্মসমর্পণের সহজাত প্রেরণা পরিলক্ষিত হয়। ভক্তি আপ্লুত হূদয়ে সে নিজেকে একান্ত করে সঁপে দিয়ে পেতে চায় আত্মিক পরম তৃপ্তি। কাফেররা আগুনের পূজা করেছে। আবার কেউ নিজের থেকে অধিকতর শক্তিমান মানুষের পূজায় আত্মনিয়োগ করেছে। কখনো তারা নিজেদের কল্পিত দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি করে সেগুলোর সামনে নতশির হয়েছে। আবার কখনো অহংকারে স্ফীত হয়ে নিজেকে প্রভু বলে ঘোষণা করেছে। এক কথায় মানবতার ক্রমবিকাশের সব স্তরে এই সহজাত প্রেরণা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। এক মুহূর্তের জন্যও মানুষ এর থেকে মুক্ত হতে পারেনি। পক্ষান্তরে মানুষের এ সহজাত প্রেরণার চাহিদা এটাই ছিল যে, মানুষ এমন এক মহান ও শাশ্বত সত্তার সামনে উৎসর্গিত যিনি সকল শক্তি, সকল ক্ষমতা ও সৌন্দর্যের উৎস; মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে যার অবস্থান, যিনি মানুষের সব দাবি ও চাহিদা পূরণে এবং তাদের সহজাত প্রেরণা ও উচ্ছ্বাসকে তৃপ্ত করতে সক্ষম। এই পূর্ণতম সত্তাই হলেন মহান রাব্বুল আলামিন সারা জাহানের পালনকর্তা।

আল-কোরআনে মানুষের ওই সুুপ্ত প্রেরণাকে তৃপ্ত করার লক্ষ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত কর। আল্লাহর ফিতরাত তথা প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ ও সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সরল দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (সুরা রূম, ৩০:৩০)

ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। হজরত মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহর আখেরি নবী। কোরআন তাঁর প্রতি নাজিল করা আখেরি কিতাব। মহানবী (সা.)-এর আগমনের পর পূর্ববর্তী শরীআত ও কিতাব সবই রহিত হয়ে গেছে। এরপর আর কোনো নবী আসবেন না এবং কোনো কিতাবও নাজিল হবে না। যারা এ আকিদা পোষণ করবেন তারা মুসলিম। আর যারা এ আকিদা পোষণ করবেন না তারা অমুসলিম-কাফির।

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এতে কোনো খুত নেই, নেই কোনো অপূর্ণতা। আল-কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে, আজ আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৩) কোরআনে আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেছেন এবং আমি আপনার প্রতি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্যে প্রতিটি বস্তুর স্পষ্ট বর্ণনা বিদ্যমান। (সুরা নাহল,আয়াত : ৮৯)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here