ইয়াবা সেবনের নিরাপদ স্থান মাদক নিরাময় কেন্দ্র

0
216

সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে মাদক বিক্রেতারা গা ঢাকা দিয়েছে।এছাড়া এদের বেশিরভাগই ধরা পড়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। তবে মাঠ পর্যায়ের কিছু মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। রাজধানীর কোন মাদক স্পটে ইয়াবা না পাওয়া গেলেও এসব নিরাময় কেন্দ্রে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মিরপুর শাহআলী মাজারের পেছনের রোডে রাস্তায় ‘ছায়ানিবাস’ নামক একটি নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে কয়েক যুবক ইয়াবা সেবন করছেন। দোতলার জানালা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। সেই সাথে নাকে লাগলো বিস্কুটের গন্ধ। স্থানীয় এক দোকানদার জানান, এই নিরাময় কেন্দ্রে সারাদিনই মাদক সেবন করে বেশকজন যুবক। তারাই এ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। মালিক বা কোন কমর্তকর্তার সঙ্গে আলাপ করতে চাইলে এক যুবক বলেন, আমিই মালিকদের একজন। মাদকাসক্তদের (রোগী) কি সেবা দিয়ে থাকেন এবং কিভাবে রোগী আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারনত পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি টিম গিয়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়। অনেক সময় মাদক মামলার আসামীদের ডাক্তারি সার্টিফিকেট দিয়ে জামিনের জন্য সহযোগিতা করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানে তিনজন ডাক্তার রয়েছে বলা হলেও কোন ডাক্তারের দেখা মেলেনি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার এড়াতে এসব মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মাদক বিক্রেতারা বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রায় একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে মিরপুর বেড়িবাধ এলাকার ‘অনুসন্ধান’ নামক আরেকটি কেন্দ্রে। ভেতরে গিয়ে দেখা যায় একটি কক্ষে ধোয়ায় অচ্ছন্ন। খালি গায়ে চার যুবককে কিছু একটা সেবন করতে দেখা যায়। তবে সেখানে বিস্কুটের গন্ধ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানে এক মাদক সেবীকে চিকিৎসার নামে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠোনের মালিক ইয়াসনি আলী গ্রেফতার হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে জেল থেকে বেরিয়েছেন।

এছাড়া পরিবর্তন নামের আরেকটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে কিছুদিন আগে দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও মিরপুর এলাকার ১৭/১৮ টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মাদতক বিক্রি ও কেন্দ্রের ভেতরে বসেই সেবনের অভিযোগ জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক খুরশিদ আলম বলেন, আসলে মাদকসেবীরা নিরাময় কেন্দ্র চালাচ্ছে বিষয়টি তেমন না। একসময় মাদকাসক্ত ছিল পরে ভাল হয়ে গেছে তারাই মূলত চালাচ্ছে। নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না করায় গত কয়েকমাসে ১০ টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here