ঈদুল আযহার তাকবিরে তাশরিক কখন পড়বেন?

0
219

গামীকাল বাংলাদেশের মুসলিমরা ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন। ঈদের আগের দিনের ফজরের ফরজ নামাজ থেকে প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। কিন্তু, অনেক মুসলিমই জানেন না, ঠিক কিভাবে এবং কখন এই তাকবিরে তাশরিক পড়তে হবে?

তাদের জানানো যাচ্ছে, ৯ যিলহজ ফজর থেকে ১৩ যিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর একবার তাকবিরে তাশরিক তথা- ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ বলা ওয়াজিব। অবশ্য কোনো কোনো সাহাবী থেকে তাকবিরে তাশরিকের সঙ্গে অন্য কিছু মিলিয়ে পড়ার বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেমন: হযরত ইবনে উমর (রা.) তাকবিরে তাশরিকের আগে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। (আলআওসাত, হাদীস: ২২০১)

তাবেয়ী ইবরাহীম নাখঈ (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম আরাফার দিন নামাযের পর উক্ত তাকবির বলতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ৫৬৯৬)

এ বছর আগামী ২১ আগস্ট মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) ফজর থেকে ২৫ আগস্ট শনিবার (১৩ জিলহজ) আসর নামাজ পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর ‘তাকবিরে তাশরিক’ পড়তে হবে।
কারা পড়বেন?

এটা ফরয নামাযের পর প্রত্যেক বালেগ পুরুষ, নারী, মুকিম, মুসাফির, গ্রামবাসী, শহরবাসী, জামায়াতের সঙ্গে নামায পড়ুক বা একাকি পড়ুকÑ প্রত্যেককেই একবার করে পাঠ করতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী, বাহরুর রায়িক)

কতবার পড়বেন?

তবে পূর্ণ তাকবিরে তাশরিক তিনবার পড়ার বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফিকহবিদরাও তিনবার বলার প্রতি গুরুত্ব দেননি। অবশ্য কেউ যদি সুন্নত মনে না করে এমনিতেই তিনবার বলে তবে সেটাকে বিদআত বলাও উচিত নয়। (আলআওসাত, হাদীস: ২১৯৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ৫৬৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫)

এই তাকবির তিনবার বলা সুন্নত বা মুস্তাহাব নয়। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কীভাবে তাশরিকের দিনগুলোতে তাকবির বলতেন, তা হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে একাধিকবার তাকবিরের কথা উল্লেখ নেই। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ৫৬৯৮, ৫৬৯৯; আলআওসাত, হাদীস: ২১৯৮, ২২০০)

তাকবিরে তাশরিকের গোড়ার কথা:

সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (রহ.) মবসুত ও কাজীখান কিতাবদ্বয় থেকে ‘হেদায়া ’ কিতাবের ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, হযরত ইবরাহীম (আ.) আপন পুত্র ইসমাঈল (আ.)- কে যখন কোরবানী করতে শুরু কররেন, তখন হযরত জিবরাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে বেহেশত থেকে একটি দুম্বা নিয়ে রওনা হলেন।

তাঁর সংশয় হচ্ছিল পৃথিবীতে পদার্পণ করার পূর্বেই হযরত ইবরাহীম (আ.) যবেহ কার্য সম্পন্ন করে ফেলবেন। তাই হযরত জিবরাইল (আ.) আকাশ থেকেই উচ্চস্বরে ধ্বনি দিতে থাকেন- الله اكبر- الله اكبر । হযরত ইবরাহীম (আ.) তাঁর আওয়াজ শুনে আকাশ পানে দৃষ্টি করে দেখতে পেলেন যে, উপস্থিত কোরবানীর বস্তু ইসমাঈল (আ.)- এর পরিবর্তে তিনি একটি দুম্বা নিয়ে আসছেন।

তাই তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন- لا اله الاالله والله اكبر. পিতার মুখে তাওহিদের এ অমূল্যবাণী শুনতে পেয়ে হযরত ইসমাঈল (আ.) আল্লাহর মহাত্ম, মর্যাদা ও শান শওকতের উপর হামদ পেশ করে বললেন, الله اكبر ولله الحمد একজন মহান আল্লাহর ফেরেশতা, একজন নবী ও একজন ভাবী নবী এ তিন মহান ব্যক্তিত্বের খুশীর আবেগে উচ্চারিত এ আমলটুকু ও পবিত্র কালামগুলো আল্লাহর দরবারে এত বেশী কবুল হলো যে, কিয়ামত পর্যন্ত ঈদুল আয্হায় বিশ্ব মুসলিমের কণ্ঠে কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকবে।

তাকবির সম্পর্কে কিছু মাসয়ালা:

১. ইমাম তাকবির বলতে ভুলে গেলে ও মুক্তাদির তাকবির বলা ওয়াজিব। (ফাতওয়ায়ে শামী ১ম খ- ৭৭৭ পৃষ্ঠা)
২. পুরুষেরা তাকবির উচ্চ-মধ্যম স্বরে আর নারীরা অনুচ্চস্বরে বলবে। পুরুষ উচ্চস্বরে না পড়ে আস্তে আস্তে পড়লে ওয়াজিব আদায় হবে না।
৩. মাসবুক তার নামায আদায় করে তাকবির বলবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী ১ম খ–৭৮৬পৃষ্ঠা )
৪. যদি মুসল্লি ফরয নামাযের পর তাকবির বলতে ভুলে যায় এবং কিছু কাজ করে ফেলে যার দ্বারা নামায নষ্ট হয়ে যায় (যেমন মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া, অথবা ভুলে বা ইচ্ছায় কথা বলা অথবা ইচ্ছা করে অজু ভঙ্গ করা), তবে তার উপর থেকে তাকবির বলা রহিত হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া শামী ১ম খ-, ৭৮৬ পৃষ্ঠা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here