উড়ে এসে কেউ দেশকে রক্ষা করে দিবে না : মির্জা ফখরুল

0
223

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই দেশকে আমাদেরই রক্ষা করতে, অন্য কেউ উড়ে এসে আমাদেরকে রক্ষা করে দিবে না। এজন্য ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বুধবার বিকেলে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি শীর্ষক আলোচনা সাভাটির আয়োজন করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বন্দুক পিস্তলের ভয়, দেখিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে নিচ্ছে। অগোচরে বহু মানুষের রক্তে তাদের হাত রঞ্জিত হয়ে গেছে। আমাদের দলের ৫০০ নেতা-কর্মী গুম হয়ে গেছেন তাদের কোনো খোঁজ নেই। ক্রসফায়ার, বিনাবিচারে হত্যা, নিখোঁজ-গুম, এইটা হল এই দেশের অবস্থা। তাই আপনার এই দেশকে আপনাকেই রক্ষা করতে হবে। অন্য কেউ উড়ে এসে আমাদেরকে রক্ষা করে দিবে না। তাই ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সমস্ত মানুষদের ঐক্যেবদ্ধ করে এই দানব যে বুকের উপর চেপে বসে আছে তাদের সরিয়ে দিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে এরকম একটা সরকার আমাদের বুকের উপর চেপে বসে আছে।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলা নিয়ে বলেন, এই ঘটনা ঘটার সাথে সাথে তদন্ত করার জন্য বিএনপি সরকার এফবিআই ও ইন্টারপোলের কর্মকর্তাদের দেশে নিয়ে এসেছিল তদন্ত করার জন্য, কিন্তু তারা সেই তদন্তের রিপোর্ট দিয়ে যেতে পারেন নাই। কেনো? আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী ও তার দল তখন তাদের সহযোগীতা করেনি। যে গাড়িতে তিনি (শেখ হাসিনা) গিয়েছিলেন সেটা পরীক্ষা করার জন্য তাদের (এফবিআই ও ইন্টারপোলকে) দেওয়া হয়নি, এবং এই মামলার তিনি ছিলেন দুই নম্বর সাক্ষী, তিনি কোনোদিন আদালতে গিয়ে কোনো সাক্ষ্য দেননি।

পুলিশের তিনজন আইজি, সেনাবাহিনী উচ্চপদস্থ তিন জন কর্মকর্তা কারাগারে। পর পর তিনজন তদন্ত কর্মকর্তা চলে গেছেন, এর মধ্যে ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের শাসনকাল গেছে। তারা কিন্তু তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টুর নাম দেন নাই। এই নামগুলো পরোবর্তী কালে এই আওয়ামীলীগ সরকার মামলায় ঢুকিয়েছে। আবদুল কাহার আকনদ যিনি অবসরে গিয়েছিলেন, যিনি আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচনের নমিনেশন চেয়েছিলেন তাকে সরকার তদন্তকর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি মুফতি হান্নানকে ২৪৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে তার কাছ থেকে লিখে নিয়েছে যে তারেক রহমান জানতেন। কিন্তু রিমান্ড শেষে যখন তিনি আদালতে আসেন তখন তিনি বলেন আমাকে নির্জাতন, জোর করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী আদায় করা হয়েছে, আর এটা ছিল ২য় জবানবন্দী। এভাবে তারেক রহমানকে মামলায় জড়িয়েছে। এই অন্যয়, মিথ্যাচার, আল্লাহ সহ্য করবে না।

তিনি আরও বলেন, গত পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত এই সরকার সাড়ে ৪ হাজার গায়েবী, ভৌতিক মামলা দিয়েছেন। আমাদের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের নেটা পর্যন্ত ২ লক্ষ ৩৩ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এটা কখন করে যখন তারা ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত। যে বিএনপি যদি নির্বাচনে যায় তাদের (আওয়ামীলীগের) কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। সে কারনে ২০ দলীয় জোট, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। তারা বেগম খালেদা জিয়া কে কেনো আটক করে রেখেছে? যে তিনি যদি বাইরে থাকেন, মুক্ত হয়ে বেড়িয়ে আসেন, জনগণকে যদি আহ্বান করেন তাহলে লাখোও কোটি জনতা এদের তাকতে-তাউসকে ধুলার মতো উড়িয়ে দিবে।
এজন্যই তারা বেগম খালেদা জিয়াকে তারা আটকে রেখেছে।

জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে ফখরুল বলেন, নির্বাচনে ক্ষেত্রটা কোথায়? এটা তো আপনারা (সরকার) শেষ করে দিয়েছেন। কোনো লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। নির্বাচনে তো আমাদের যেতেই হবে, কারণ আমরা রাজনৈতিক দল। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন চাই, কিন্তু কোন নির্বাচন? যে নির্বাচনে আমার কথা বলার সুযোগ থাকবে না। ক্যাম্পেইন করার সুযোগ, ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না, সেই নির্বাচন কি নির্বাচন হবে? হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here