ঋণখেলাপির কারণে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন বাতিল, ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা

0
268

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাছাই শেষে সারা দেশে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিভিন্ন দলের ৭৮৬ জন প্রার্থীর। বেশিরভাগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে। ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে আটকে দেয়াকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : সময় টেলিভিশন

অন্য বছরের তুলনায় এবার ঋণখেলাপির কারণে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। এমন অবস্থায় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থী করার জন্য এসব দলের নীতি-নৈতিকতা চর্চার অভাবকে দুষছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, ‘যারা ঋণখেলাপি হয়, তারা কর খেলাপি হতে পারেন, তারা তো কথাবর্তার ক্ষেত্রেও বরখেলাপি হবেন। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেজন্যে ওদের বাদ দেয়াটাই উচিত। তার থেকে বড় কথা আইন, আইন অমান্য করে তাদের নির্বাচন করতে দিতে কেউ পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ২৮৬, আর বিএনপির ৬০০, বিষয়টি অবাস্তব ব্যাপার। বিএনপি এই ব্যাপারে কোনোভাবেই নৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করেনি। আমাদের আশা থাকবে, রাজনৈতিক দলগুলো নৈতিকতা যাচাই করে প্রার্থী দেবেন।’

এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম.এম. আকাশ বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে, তারা কঠোরভাবে নীতি অনুসরণ করবে। যেটা নির্বাচন কমিশন করছে, বিষয়টি শুভ লক্ষণ। সুতরাং এই লক্ষণটাকে আমি ইতিবাচক মনে করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু সে জনপ্রতিনিধি হবে, আর নিজেই যদি আইন না মানে তাহলে জনপ্রতিনিধি হওয়ার তো যোগ্যতা থাকে না।’

তবে খেলাপী ঋণ রিশিডিউল করে কিংবা অন্য কোনোভাবে যদি কেউ ছাড় পেয়ে থাকেন তবে সেটা ঋণ আদায়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা বলেও মনে করেন তারা। সেই সঙ্গে হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ স্থাপন করে ঋণ খেলাপির মামলা নিষ্পত্তিরও দাবি তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here