ঋণের টাকা শোধে অনাগত সন্তান বিক্রি করে দিলেন মা

0
204

ভাবের তাড়নায় অন্তঃসত্ত্বা রাবেয়া (৩০) তার অনাগত সন্তান বিক্রি করে দিয়েছেন, মাত্র ৪০ হাজার টাকায়। দুটি এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। একদিকে অভাব অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের তাগাদা, অতিষ্ঠ রাবেয়া সিদ্ধান্ত নিলেন সন্তান বিক্রির। বিষয়টি জানতে পারেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি রাবেয়ার ঋণ পরিশোধ ও তাকে সার্বিক সহযোগিতার দায়িত্ব নিয়েছেন।

জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা রাবেয়া। তিনি চার সন্তানের জননী। বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার স্বামী জাহাঙ্গীর দিনমজুর। সাংসারিক প্রয়োজনে স্থানীয় গ্রামীণ ব্যাংক ও আশা থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন রাবেয়া। সাপ্তাহিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের কথা ছিল।

অন্যদিকে ঋণের চাপে দিনমজুর স্বামী স্ত্রী-সন্তান রেখে নিরুদ্দেশ। নিরুপায় হয়ে সন্তানদের নিয়ে বৃদ্ধ বাবার বাড়ি চলে যান রাবেয়া। বয়োবৃদ্ধ অন্ধ বাবার আর্থিক অবস্থাও বেশ খারাপ। একদিকে অভাব অন্যদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকার চাপ রাবেয়াকে অতিষ্ঠ করে তুলে। তাই উপায়ান্তর না পেয়ে রাবেয়া নিজের গর্ভের অনাগত সন্তান ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সন্তানের ক্রেতার কাছ থেকে সংসার চালানোর জন্য ৫ হাজার টাকা অগ্রিম নেন। অবশিষ্ট ৩৫ হাজার টাকা সন্তান প্রসব হওয়ার পর তার পাওয়ার কথা।

বিষয়টি জানতে পেরে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে রাবেয়ার বাড়িতে ছুটে যান। তিনি রাবেয়ার হাতে নগদ ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন। এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক সুপারভাইজর রাবেয়াকে মাতৃত্বভাতা বাবদ ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেন। ইউএনওর কাছ থেকে নগদ টাকা পেয়ে গর্ভের অনাগত সন্তান বিক্রির অগ্রিম ৫ হাজার টাকা ফেরত দেন। ইউএনও রাবেয়ার নামে একটি ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০ কেজি খাদ্য সহায়তা, চিকিত্সাসেবা ও ঋণ পরিশোধের সার্বিক দায়িত্ব নেন। ফলে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পায় রাবেয়ার অনাগত সন্তান। এ ব্যাপারে রাবেয়া বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আমি আমার পেটের সন্তানকে রক্ষা করতে পেরেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মানবিক কারণে রাবেয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here