একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগীতজ্ঞকে হারানোর দুই বছর

0
55

আহমেদ ইমিতিয়াজ বুলবুল। বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি সংগীত ব্যক্তিত্ব। যিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত পরিচালক ছিলেন। সত্তরের দশকের শেষ লগ্ন থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সংগীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য বুলবুল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক পান। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে দুইবার জিতেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অন্যান্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

আজ সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি ৬৩ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন বুলবুল। হৃদপিণ্ডে ব্লক ধরা পড়ায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার অপারেশনও করা হয়। কিছুটা সুস্থও হন।

কিন্তু সেই সুস্থতা স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাস না যেতেই ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বুলবুল। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রকাশ করেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ওয়াফিজ আহমেদ ও মাতার নাম ইফাদ আরা নাজিমুন নেসা। ঢাকার আজিমপুরের ওয়েস্টটেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন এবং শিক্ষাজীবনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরে মেজর আবু তাহের মোহাম্মদ হায়দারের অধীনে যুদ্ধ করেন।

১৯৭৬ সাল থেকে সাল থেকে নিয়মিত গান শুরু করেন বুলবুল। ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে বেলাল আহমেদের পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের গীত রচনা ও সংগীত পরিচালনা করেন তিনি। সে ছবিতে তার লেখা ‘আমার সারা দেহ খেয়োগো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমি তোমার দুটি চোখের দুটি তারা হয়ে’ গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

বুলবুল স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, জেমস, আগুন, কনক চাঁপা, মনির খানসহ বাংলাদেশের সব জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন। সংগীত প্রতিভা অন্বেষণে বাংলাদেশের রিয়েলিটি অনুষ্ঠান ক্লোজআপ ওয়ানের তিন মৌসুমে তিনি বিচারক হিসেবে দায়িত্বও পালন করেন।

ইমতিয়াজ বুলবুল ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেমের তাজমহল’ চলচ্চিত্রের জন্য ২৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে প্রথমবার ও ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রের জন্য দ্বিতীয়বারের মত শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১০ সালে তাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক প্রদান করা হয়। সূত্র: ঢাকাটাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here