‘একজোড়া হাতই স্তন ক্যান্সার থেকে নারীকে বাঁচাতে পারে’

0
168

দেশে ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, দেশের ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ২৭ দশমিক চার শতাংশ নারী স্তন ক্যান্সারে ভুগছেন। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের গড় বয়স প্রায় ৪৩ বছর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীর নিজের একজোড়া হাতই হতে পারে স্তন ক্যান্সার থেকে রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়। নিজের হাতের সাহায্যে নারীরা প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ চিহ্নিত করতে পারেন।’

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৮৯ শতাংশই বিবাহিত নারী, যাদের গড় বয়স ৪১ বছর।
‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন ১৪ হাজার ৮২২ জন নারী। এরমধ্যে মারা যান সাত হাজার ১৩৫ জন। নারী ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ ও ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) এক হিসাবে দেখা যায়, দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত।

গবেষকরা বলছেন, দেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। এ রোগে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। অপ্রতুল সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা, বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতা না থাকা, আর সচেতনতার অভাবে ক্রমেই ভয়ানক পর্যায়ে রূপ নিচ্ছে মরণঘাতক স্তন ক্যান্সার। স্তন ক্যান্সারে নারীর মৃত্যুহার দ্বিতীয়। শহরাঞ্চলের নারীরা এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কিছুটা চিকিৎসা সেবা পেলেও গ্রামীণ নারীরা এক্ষেত্রে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে যেসব চিকিৎসক নারীর স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় কাজ করছেন, তারা বলছেন—নারীর নিজের একজোড়া হাতই হতে পারে তাকে স্তন ক্যান্সার থেকে রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়। নারী যদি প্রতিদিন গোসলের সময় তার দুই হাত স্তনের ওপরে রেখে নিচ থেকে ওপর দিকে চাপ দিয়ে দেখে যে কোনও চাকা বা পিণ্ড আছে কিনা এবং কোনও ব্যথা অনুভূত হয় কিনা, কিংবা কোনও স্থানের চামড়ায় ভাঁজ বা কুঁচকে গেছে—তাহলে দ্রুত কোনও চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন। প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার ধরা পড়লে তা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব।
কোনও কোনও চিকিৎসকের মতে, শুধু নারীর নিজের হাতই নয়, নারীকে স্তন ক্যান্সার থেকে রক্ষায় তার স্বামীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। স্বামী যদি তার স্ত্রীর স্তনের সুস্থতার ব্যাপারে সচেতন থাকেন, তাহলে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই প্রাথমিক অবস্থাতেই স্তন ক্যান্সার চিহ্নিত করা সম্ভব।
আজ বুধবার (১০ অক্টোবর) দেশে বেসরকারি পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৮টি অলাভজনক বেসরকারি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস ফোরাম’ ও ‘রোটারি ইন্টারন্যাশনাল’ ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এরমধ্যে রয়েছে র‌্যালি, পথসভা, আলোচনা সভা এবং পোস্টার বিতরণ। ব্রেস্ট ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেকোনও বয়সের নারী স্তনের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। কিশোরীদেরও স্তনে সমস্যা হতে পারে। তবে অনেকে তা অসচেতনতা বা লোকলজ্জার কারণে প্রকাশ না করে ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে চেপে রাখেন। আর তখনই এটি ক্যান্সারে রূপ নেয়। দেশে দিন দিন বেশি বয়সে নারীদের বিবাহ করা, সন্তান ধারণে দেরি করা, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, স্থূলতা বেড়ে যাওয়া—এসব কারণে দিন দিন এই রোগে আক্রান্ত নারীদের সংখ্যা বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের শহুরে ও শিক্ষিত নারীদের তুলনায় গ্রামীণ নারীরা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা কম পাচ্ছেন। তাই এক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবারই স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতন করতে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এতে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নারীর মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here