একদিনের আন্দোলনেই সরকার পতন?

0
108

কাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে নানা ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও চলছে মেরুকরণ প্রক্রিয়া। দেশে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা অনেক। তবে রাজনৈতিক ধারা মূলত দুটি। ১. আওয়ামী লীগ এবং ২. এন্টি আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কিছু বন্ধু এবং সহযোগী রাজনৈতিক শক্তি আছে। এরা মোটা দাগে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতির অনুসারী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক দলও আওয়ামী লীগের সঙ্গ লাভের সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য এটাই যে আওয়ামী লীগের যে দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল, এখন তাতে একটু ভাটা পড়েছে। রাজনীতি থেকে ধর্মকে সম্পূর্ণ আলাদা করার ধারণাটি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। তারপরও আওয়ামী লীগ এখনও ধর্মান্ধ রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি বড় শক্তি হয়েই আছে।

এন্টি আওয়ামী লীগ রাজনীতিটি মূলত সাম্প্রদায়িক, ধর্মাশ্রয়ী এবং অনেকাংশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। এই ধারার রাজনীতির নেতৃত্বে আছে বিএনপি। কিছু কিছু স্বনামধন্য মুক্তিযোদ্ধা যেহেতু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আছেন, সেজন্য এটা মনে করা হয় যে বিএনপিও মোটাদাগে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল নয়। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা এটাই যে বিএনপি এখন আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সাফল্যগুলোকে ধারণ করে না। মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে রাজনীতি করতেই বিএনপি এখন সাচ্ছন্দবোধ করে।

আওয়ামী লীগবিরোধী সব শক্তি এখন বিএনপির সঙ্গে আছে। কিছু বিরোধ-পার্থক্য হয়তো আছে কিন্তু আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি আওয়ামী লীগবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টাও আছে। আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় দেখতে না চাওয়ার পক্ষের দলগুলো একপ্লাটফরমে ঐক্যবদ্ধ হতে সচেষ্ট আছে। তবে তেমন সর্বাত্মক ঐক্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল নয়। কারণ আগামী নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন সরকার বা আওয়ামী লীগ খুব হালকাভাবে দেখছে না। আগামী নির্বাচনের জয়- পরাজয় যে দেশের রাজনীতির গতিমুখ তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এটা কারো না বোঝার কথা নয়।

আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তি যেমন সরকার পরিবর্তনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, তেমনি আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা চাইছে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসতে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসতে না পারলে যে কেবল দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ব্যাহত হবে তাই নয়, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মধ্যে পড়বে। অতীতে বিএনপি প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির যে নজির রেখেছে, আগামীতে তা না কমে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপি গত দশ বছর নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি – এই দল দুটির সম্পর্ক একেবারেই চরম শত্রুতাপূর্ণ। ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে বিএনপি যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চরম প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবে, তাতে সন্দেহ নেই। ফলে বিএনপির ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সম্ভাব্য সবকিছুই করবে।

একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের যে কথা বলা হচ্ছে তা কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য নয়। বরং এমন একটি নির্বাচনই শেষপর্যন্ত হবে, যাতে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত হয়।

বিএনপির নেতারা মাঝেমধ্যেই এমন সব কথা বলেন যাতে সরকার বিএনপির ওপর খড়গ হস্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেয় । বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, বারবার আন্দোলন করতে চাই না। নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, একদিনের আন্দোলনেই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

এ ধরনের ফালতু উত্তেজনাপূর্ণ বক্তৃতা সরকারকে কঠোর হতে প্ররোচিত করবে। আন্দোলন করে সরকার পতনের বাস্তব অবস্থা না থাকা সত্ত্বেও একদিনের আন্দোলনে সরকার পতনের কথা বলে খন্দকার মাহবুব কার্যত সরকারের প্রতি চরম উস্কানি দিয়েছেন। কোনো দেশে কোনো গণআন্দোলন কোনো নেতার নির্ধারিত দিনে বা নির্দেশে হয় না। তাহলে সরকার পতনের অন্য কোনো বিশেষ  পরিকল্পনা কি বিএনপির আছে? এই উছিলায় সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সরকারের দোষ দেওয়া যাবে কি?

বিএনপির এখন উচিত হবে হঠকারিতার পথ পরিহার করে দেশটাকে সত্যিকার গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নেওয়া। কথায় বড় হওয়ার পরিবর্তে আমাদের এখন কাজে বড় হওয়ার প্রতিয়োগিতায় নামতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here