একদিনে কেজিতে এলাচের ৪০০, জিরার ১০০ টাকা দাম কমেছে

0
66

ঈদের আগে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর একদিনের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এলাচের দাম কেজিতে ৪০০ টাকা এবং জিরার দাম ১০০ টাকা কমেছে। এ নিয়ে ঈদের পর একাধিক দফায় এলাচ ও জিরার দাম কমল।

এর আগে বড় অঙ্কে দাম কমে লবঙ্গের। সেই সঙ্গে দারুচিনি, তেজপাতা, আদা, রসুন, পেঁয়াজসহ প্রায় সব ধরনের সমলার দাম কমেছে। ঈদের পর চাহিদা কমায় একের পর এক মসলার দাম কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

করোনাভাইরাসের কারণে নানা সমস্যা দেখিয়ে এপ্রিল মাস থেকে দফায় দফায় বিভিন্ন মসলার দাম বাড়াতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৩ মে গরম মসলার পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতি গরম মসলার দাম ১০ থেকে ২৫ ভাগ কমানোর কথা দেন। তবে ঈদের আগে ব্যবসায়ীদের দেয়া কথার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। উল্টো জিরা, এলাচসহ কিছু মসলার দাম আরও বাড়ে।

ঈদের আগে চাহিদা বেশি থাকায় কোনো কোনো বাজারে এলাচের কেজি ৪২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে ঈদের পর চাহিদা কমায় গত সপ্তাহে দাম কমে ৩৫০০ টাকায় নামে। এখন তা আরও কমে ৩১০০ টাকা কেজি হয়েছে।

অপরদিকে ঈদের আগে জিরার কেজি ৫৫০ টাকায় পৌঁছায়। তবে ঈদের পর দাম কমে ৪৫০ টাকায় নামে। আর এখন তা আরও কমে সাড়ে তিন’শ টাকায় নেমছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাচের কেজি এখন ৩১০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা রোববারও (৭ জুন) সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা ছিল। আর জিরার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, যা গত রোববার ছিল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

একদিনের ব্যবধানে এলাচ ও জিরার বড় অঙ্কের দাম কমার তথ্য উঠে এসেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনেও। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এলাচের দাম ১২ শতাংশ এবং জিরার দাম ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ কমেছে। সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা কেজি বিক্রি হওয়া এলাচের দাম ৮ জুন এক ধাক্কায় ৩১০০ থেকে ৩৫০০ টাকায় নেমেছে। আর ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া জিরার দাম কমে ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা হয়েছে।

এলাচ ও জিরার দাম কমার বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, ঈদের আগে শ্যামবাজারে সব ধরনের মসলার দাম অনেক বেশি ছিল। কিন্তু এখন প্রায় প্রতিদিনই মসলার দাম কমছে। গতকাল সোমবার এলাচের দাম কেজিতে ৪০০ টাকা কম নিয়েছে। জিরার দাম কম নিয়েছে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহেও এলাচ ও জিরার দাম কিছুটা কমেছিল। তবে একবারে এতো কমে নাই।

তিনি বলেন, ঈদের আগে চাহিদা বেশি থাকায় সব ধরনের সমলার দাম বাড়তি ছিল। ঈদের পর চাহিদা কমায় এখন জিরা, এলাচের পাশাপাশি লবঙ্গ, আদা, রসুন, দারুচিনিসহ সব মসলার দাম কমছে। অবস্থা যা বুঝতে পারছি কোরবানি ঈদের আগে মসলার দাম বাড়ার আর তেমন সম্ভাবনা নেই।

মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী আসরাফুল বলেন, গত বৃহস্পতিবার শ্যামবাজারে এলাচের কেজি ছিল ৩২০০ টাকা। এখন সেই এলাচ ২৮০০ টাকা কেজিতে কিনেছি। ৪০০ টাকা কেজি কেনা জিরা এখন ৩০০ টাকায় কিনেছি। এমন কম দামে কিনতে পারায় আমরাও কম দামে বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, দাম কমলেও এখন মসলার চাহিদা তুলনামূলক কম। ঢাকা আবার লকডাউন হবে, এমন গুঞ্জনে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে মাঝে মানুষের চলাচল বাড়লেও এখন আবার কিছুটা কমেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই ঠিক থাকছে না। হুটহাট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আবার কমছে। এতে আমাদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীরা মাঝে মধ্যে বিপাকে পড়ছি। প্রতিযোগীতামূলক বাজার, তাই দাম কমলেও বেশি দামে কেনা মাল কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, লবঙ্গের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজি। আর ঈদের আগে ছিল ১৩০০ টাকা কেজি।

ঈদের আগে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দারুচিনির দাম কমে এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। করোনার আগে দারুচিনির কেজি ছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

ঈদের পর দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে- পেঁয়াজ, আদা, রসুন, দেশি হলুদ, তেজপাতাও। ঈদের আগে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি রসুনের দাম কমে ৯০ থেকে ১১০ টাকা হয়েছে। আর আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, যা ঈদের আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।

দেশি হলুদের দাম কমে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। তবে আমদানি করা হলুদের কেজি আগের মতোই ২০০ থেকে ২২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে দেড়’শ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া তেজপাতার কেজি ১২০ টাকায় নেমেছে।

ঈদের আগে অস্বাভাবিক দাম বাড়া দেশি ও আমদানি করা উভয় ধরনের আদার দাম কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ঈদের আগে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি আদার দাম কমে ১০০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে। আর আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, যা ঈদের আগে ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

ঈদের আগে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের দাম কমে হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে কমেছে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও। বিভিন্ন বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সুত্র:জাগোনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here