ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে শুরুতে মিরাজের আঘাত (সরাসরি)

0
203

ওয়েস্ট শিবিরে শুরুতে মিরাজ আঘাত হানেন । চার ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজরে সংগ্রহ ১২/১ উইকেট হারিয়ে । ৫ অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের এক সঙ্গে খেলা শততম ওয়ানডেতে তামিম-মুশফিকের ব্যাটেই বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিলো এক পর্যায়ে। ক্যারিবীয়দের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তা আর সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ আটকে যায় ২৫৫ রানে।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজকেও টস হেরেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়রা শুরুতে স্বাগতিকদের ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায়। ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওয়ানডের শুরুটা চোট ধাক্কায় করে তামিমরা। দ্বিতীয় ওভারে ওশানে থমাসের ফুলার লেন্থের বলে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন ডানহাতি ওপেনার লিটন দাস।

থমাসের ফুলার লেন্থের বল গিয়ে লাগে লিটনের ডান গোড়ালির পেছনের অংশে। চোট বেশি হওয়ায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন লিটন। পরিচর্যা নিয়ে লিটন পরে নামলেও তার বদলে নতুন নামা ইমরুল ফিরে যান তার এক ওভার বিরতি দিয়ে। থমাসের বলে ইমরুল ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। অফস্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল। বিদায় নেন রানের খাতা খোলার আগেই।

এরপর উইকেট ফেলে দিতে রিভিউ আবেদন করেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নবম ওভারে লেগ বিফোরের আবেদনে রিভিউ নেয় তারা। মুশফিক ব্যাট করছিলেন তখন। কিন্তু রিভিউয়ে দেখা যায় বল মিস করেছে স্টাম্প। এরপর দ্রুত গতিতে ব্যাট চালিয়ে খেলেন মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল। মিরপুরে শততম ম্যাচ খেলতে নেমে ক্যারিয়ারের ৩২তম ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। অপরপ্রান্তে থাকা ওপেনার তামিমও মাইলফলকের ম্যাচে হাঁকান অর্ধশতক।

বড় সংগ্রগের ভিত গড়ে দিয়ে অর্ধশতকের পরই ফিরে যেতে হয় তামিমকে। দেবেন্দ্র বিশুর বলে মেরে খেলতে গিয়ে কেমার রোচকে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফেরেন ৫০ রানে। তামিমের ৬৩ বলের ইনিংসে ছিলো ৪টি চার ও একটি ছয়। এই জুটিতে আসে ১১১ রান। তামিম ফিরে গেলে সঙ্গী মুশফিকও স্থায়ী হননি বেশিক্ষণ। ৬২ রানে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন থমাসের বলে। তার ৮০ বলের ইনিংসে ছিলো ৫টি চার।

নতুন দুই ব্যাটসম্যান নামলে শুরুতে শ্লথ হয়ে পড়ে রানের চাকা। থিতু হওয়ার পর রানের চাকা সচল করেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে। এই জুটি আরও বড় হতো যদি না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভুল শট খেলতে যেতেন। তাদের পার্টনারশিপ যখন ৬০ রানে দাঁড়িয়ে তখনই ভুল শটে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। পাওয়েলের বলে টপ এজ হয়ে রিয়াদ ধরা পড়েন হেটমায়ারের হাতে।

সৌম্য সরকার নেমে রানের যোগান দিতে পারেননি। ৬ রানে ব্যাট করতে থাকা সৌম্য শর্ট বলে ক্যাচ উঠিয়ে দেন থার্ড ম্যানে। তার ক্যাচ লুফে নেন দেবেন্দ্র বিশু। সাকিব অপর দিকে অভিজ্ঞ ৫ তারকার মাইল ফলকের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ছক্কা মেরে। তার আগে অবশ্য নো বলে ক্যাচ উঠিয়ে ছিলেন। এরপর ফ্রি হিট পেলে ছক্কা মেরে পূরণ করেন ক্যারিয়ারের ৪০তম ফিফটি। হাফসেঞ্চুরির পর রানের গতি আরও বাড়াতে গিয়ে ৬৫ রানে বোল্ড হন রোচের বলে। তার বিদায়ের ফলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনার ইতি ঘটে এখানেই।

সাকিবের বিদায়ের আগে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া লিটন দাস ব্যাটিংয়ে নেমে ফিরে যান অল্পতেই। চোটগ্রস্ত হয়ে মনোযোগী হতে পারেননি পরে নেমে। ব্যক্তিগত ৮ রানে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন হেটমায়ারের বলে। শেষ দুই ওভারে তেমন রান করতে পারেননি মাশরাফি ও মেহেদী হাসান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৫৪ রানে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন ওশানে থমাস। একটি করে উইকেট নেন দেবেন্দ্র বিশু, কিমো পল, রোভম্যান পাওয়েল ও কেমার রোচ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here