করোনাভাইরাস: বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বার্লিনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৩০০

0
58

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে করোনাভাইরাস বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভ ভেঙে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীরা করোনাভাইরাস বিধিনিষেধে নির্দেশিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে না পারা ও মাস্ক না পরায় বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শনিবারের এ বিক্ষোভে যোগ দিতে শহরজুড়ে প্রায় ৩৮ হাজার প্রতিবাদকারী জড়ো হয়। প্রতিবাদ প্রায় শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্যারিস, লন্ডন, ভিয়েনা, জুরিখসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।  

ইউরোপজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ফের বৃদ্ধি আর ভাইরাসের বিস্তার রোধে আরোপ করা বিধিনিষেধ নিয়ে জনগণের হতাশার প্রতিফলন এসব বিক্ষোভ বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এক টুইটে বার্লিন পুলিশ বলেছে, “দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প নেই।”

পাশাপাশি বিক্ষোভে যোগ দেওয়া লোকজন সুরক্ষার শর্তাবলী মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

বান্ডেনবুর্গ গেইটের কাছে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। এদের কিছু অংশ পুলিশের দিকে পাথর ও বোতল ছুড়ে মারে। এখান থেকে পুলিশ প্রায় ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন বার্লিন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেস গাইজেল, এদের ‘চরমপন্থি’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। এখানে সাত জন পুলিশও আহত হয়েছেন। 

কাছেই পৃথক আরেকটি প্রতিবাদে প্রায় ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী যোগ দেয়। এই বিক্ষোভকারীরা সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলায় তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন গাইজেল।

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে শহরজুড়ে তিন হাজার পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। প্রথমে বার্লিনের কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও জার্মানির আঞ্চলিক আদালত রাতে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে প্রতিবাদকারীদের এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। 

এখনও পর্যন্ত ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় জার্মানি ভালোভাবেই করোনাভাইরাস সংকট সামাল দিয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ ও যত্নশীল পরীক্ষা সংক্রমণ ও মৃত্যু, উভয়কেই নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রোববার সকাল পর্যন্ত জার্মানিতে মোট শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ৮৩৫ জন ও মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ২৯৯।

সূত্র: বিডিনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here