করোনা: দেশে মোবাইল উৎপাদন-আমদানি কমেছে

0
75

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীন থেকে যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল কম আসায় দেশে কমে গেছে মোবাইল ফোনের উৎপাদন। এমনকি করোনার প্রভাবে মোবাইল ফোনের আমদানিও কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কিছুদিনের মধ্যে দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ মোবাইল আমদানি কমেছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাব না কমলে কিছুদিনের মধ্যে দেশের মোবাইল কারখানাগুলো কাঁচামাল সংকটে পড়বে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেছেন, অনেক কারখানায় মোবাইলের প্রতিদিনকার উৎপাদন কমেছে। অনেকে আগে থেকে কাঁচামাল স্টক করে রাখলেও তা শেষ হয়ে গেলে তারাও সমস্যায় পড়বে। অন্যদিকে বাজারে মোবাইল ফোনের সংকটও দেখা দিয়েছে।

মোবাইল ফোনের আমদানিকারকরা বলছেন, বিভিন্ন চ্যানেলে আসা কিছু পণ্য তাদের হাতে  থাকায় তা দিয়ে বাজারের স্বাভাবিকতা ধরে রাখতে পেরেছেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট মডেলের ফোনের বেলায় সংকট দেখা দিয়েছে। স্টক শেষ হয়ে গেছে। তারা আরও বলছেন, পুরনো এলসির (লেটার অব ক্রেডিট বা ঋণপত্র) কিছু পণ্য পরিমাণে কম পাওয়া গেলেও আসছে। কিন্তু নতুন এলসির পণ্য তারা পাবেন কিনা, এ নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে।       

দেশে স্যামসাং মোবাইলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেয়ার গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মেসবাহউদ্দিন বলেন, ‘স্যামসাংয়ের উৎপাদনে কোনও প্রভাব পড়েনি। আগামী একমাস আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবো। করোনা ভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হলে আমাদের উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।’ তিনি জানান, ফেয়ার গ্রুপ স্যামসাং মোবাইলের যন্ত্রাংশ ভিয়েতনামের কারখানা থেকে নিয়ে আসে। ফলে তাদের কোনও সমস্যা এখনও হয়নি।

বিএমপিআইএ’র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি জানান, তিনি জানতে পেরেছেন, এরইমধ্যে মোবাইল ফোনের বাজারে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কিছু কিছু ব্র্যান্ডের মডেল বাজারে শর্টেজ আছে। অনেক ব্র্যান্ড স্টকে নেই। এটা করোনা ভাইরাসের কারণে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মোহাম্মদ মেসবাহউদ্দিন আরও জানান, মার্চ মাসের শেষ নাগাদ মোবাইল বাজারের প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, দেশে মোবাইলের আমদানি কমেছে।  

দেশীয় মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম জানান, তাদের মোবাইল উৎপাদন কমেনি। মোবাইলের যন্ত্রাংশও পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। শিগগিরই উৎপাদনে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানান তিনি। তাদের কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে।

শাওমি মোবাইলের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রভাব তো পড়েছেই। কিছু কিছু মডেলের সেট মার্কেটে নেই। সেগুলো আসছেও না। বাজারে চাহিদা অনেক, কিন্তু স্মার্টফোনের ঘাটতি রয়েছে। অল্প অল্প করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।’

জানতে চাইলে মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ট্রানশান বাংলাদেশের (টেকনো ও আইটেল মোবাইল) প্রধান নির্বাহী রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘উৎপাদনের গতি কমেছে। জাহাজে কাঁচামাল আসতে দেরি হচ্ছে। সময়মতো আসছেও না। এভাবে চললে সামনের দিনগুলোতে ঝামেলায় পড়বো বলে মনে হচ্ছে।’ তিনি জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এরইমধ্যে মোবাইল ফোনের কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পাওয়াও যাচ্ছে না। মেমরি কার্ডের দাম বেড়েছে। এভাবে চললে মোবাইলের দামও বেড়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

মোবাইল সেট আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমদানি অনেক কমেছে।’ শতাংশ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—প্রায় ৩০ শতাংশ মোবাইল আমদানি কমেছে। এলসি খুলছেন আমদানিকারকরা, কিন্তু উৎপাদকরা দিতে পারছেন না। ফলে এরইমধ্যে বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

মোবাইল ফোন আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সোলার ইলেক্ট্রো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এসইবিএল) প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন বলেন, ‘আমাদের চ্যানেলে কিছু পণ্য আছে বলে বাজারে চাহিদার তুলনায় কম হলেও এখনও মোবাইল দিতে পারছি। আর কয়েকদিন পরে সম্ভব হবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, পুরনো এলসির পণ্যই এখন কিছু কিছু করে পাচ্ছি। দেখা গেলো অর্ডার করেছিলাম ১০ হাজার পিস, মোবাইল পাঠিয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার পিস। নতুন এলসিতে পণ্য পাওয়ার কোনও আশা দেখেন না তিনি। তিনি মনে করেন, শাওমি মোবাইল চীনের পাশাপাশি ভারতেও তৈরি হয়। এ কারণে এখনও কিছু সেট বাজারে আসছে। চলমান সংকট দূর না হলে শিগগিরই মোবাইল বাজারে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।

সিম্ফনি মোবাইল ফোন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কাঁচামালের সরবরাহ আগের চেয়ে কমেছে। তবে এরই মধ্যে যে কাঁচামাল এসেছে, তা দিয়ে তৈরি  হচ্ছে নতুন মোবাইল। আগামী সপ্তাহে সেই নতুন মোবাইল বাজারে আসতে পারে বলে জানা গেছে।সূত্র:বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here