করোনা নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারে ট্রাম্পের ফেসবুক-টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্লক

0
34

করোনা নিয়ে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ব্লক করা হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে করোনা সংক্রান্ত ওই সমস্ত তথ্যও।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের করা পোস্টটি ভয়ানকভাবে বিভ্রান্তিকর হওয়ায় তা তুলে নিয়েছে ফেসবুকও। এবারই প্রথম ফেসবুকের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পোস্ট করা কোনো কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হলো। এটা তাদের করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত নীতিমালার পরিপন্থী বলে জানান হয়েছে।

কী পোস্ট করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
পোস্ট করা ভিডিওটি ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি সাক্ষাৎকার। যেখানে ট্রাম্প দাবি করেন, এবার স্কুলগুলি খুলতে হবে। মার্কিন শিশুরা করোনার বিরুদ্ধে ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে।

এই বার্তাটিকে কোভিড-১৯ বিষয়ক ভুয়া তথ্য বলে চিহ্নিত করেছে টুইটার। একটি বিবৃতিতে সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই অ্যাকাউন্টের মালিককে নিজের করা এই ভুল টুইটটি অ্যাকাউন্ট থেকে সরাতে হবে, তার পরেই এই অ্যাকাউন্ট তিনি পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন।

পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে টুইটার জানায়, ভিডিওটি ডিলিট করা হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের এই অ্যাকাউন্টও পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রচার কর্মকর্তা কোর্টনি প্যারেল্লার অবশ্য দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য অপপ্রচার হয়েছে। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, শিশুদের করোনা তুলনামূলকভাবে কম ধরা পড়ছে।

একই সঙ্গে সিলিকন ভ্যালিকে একহাত নিয়েছেন কোর্টনি। সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি আদৌ সত্যের ধারক বাহক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এ নিয়ে হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

গত মাসে টুইটারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড জুনিয়রের অ্যাকাউন্ট করোনাভাইরাস ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে ভুয়া তথ্যের কারণে সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়োপোলিসে পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার পর বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘লুটপাট চালালে গুলি শুরু হবে।’ টুইটটি সহিংসতায় উস্কানিমূলক উল্লেখ করে টুইটার কর্তৃপক্ষ সেটি সতর্কবার্তা দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল।

করোনাকালের আগেও কয়েকবার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে।

ভোটপ্রচার, প্রতিবাদ, করোনার ভুয়া তথ্য এই তিন বিষয়ে ট্রাম্পের পোস্ট থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ফেসবুক ও টুইটারের স্পষ্ট বার্তা, কোনোরকম বিভ্রান্তিকর, অসত্য, বিদ্বেষমূলক তথ্য পোস্ট করা যাবে না। তা করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চ্যানেল আই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here