করোনা পরিস্থিতি: ময়লা টাকা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের

0
91

ময়লা ও নোংরা ব্যাংক নোট থেকে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশের চিকিৎসকরাও বলছেন, নোংরা টাকা জীবাণুর ফ্যাক্টরি। এগুলোতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই এসব টাকা থেকেও ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও মাথাব্যথা নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। কর্তৃপক্ষের দাবি- এখনই এ ব্যাপারে ভাবা হচ্ছে না, তবে এমনিতেই প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার থেকে নোংরা, ছেঁড়া-ফাটা ও পুরনো নোট তুলে নেওয়া হয়।

৩ মার্চ রাতে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থাটির (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) পক্ষ থেকে নোংরা নোটের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নোটের বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ এবং নোট স্পর্শ করার পর সবাইকে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মানব দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মতো উপাদান কয়েক দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে এসব নোটে।

ব্যাংক নোট বা প্রচলিত টাকায় নানা ধরনের জীবাণুর উপস্থিতি থাকে, এটা পুরনো কথা। বিশ্বের অন্তত ৮০টি দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এনিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে হলে এ সংক্রান্ত যথাযথ নিয়ম বা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। কারণ, মানি সার্কুলেশনের ওপর নির্ভর করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনও সময়ে পুরনো টাকা বাজার থেকে তুলে নেয়।’

করোনা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি সার্কুলেশনের একটা পদ্ধতি আছে। সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে পুরনো টাকা তুলে নেওয়া হয়। কাজেই হুট করে টাকা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অবশ্য যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পুরনো টাকার মাধ্যমেই করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।’

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আক্রান্তদের ব্যবহৃত ব্যাংক নোটের জীবাণু নাশের উদ্যোগ নেওয়া হয় ফেব্রুয়ারিতে। অতি বেগুনি আলো বা উচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহার করে ১৪ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণের পর এসব নোট ফের বাইরে ছাড়া হয়।

জানতে চাইলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ময়লা বা নোংরা টাকা জীবাণুর ফ্যাক্টরি। টাকা সবময় হাত বদল হয়। ময়লা টাকার মধ্যে ছোঁয়াচে রোগের জীবাণু থাকতে পারে।’

তিনি আরও জানান, হাত দিয়ে ‘রানিং নোজ’ (নাক) পরিষ্কার করে সেই হাতে টাকা ধরলে টাকায় জীবাণু চলে যায়। তখন সেই টাকা যখন অন্য কারও হাতে যায়, তিনিও জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়।

ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘হাঁচি-কাশির মাধ্যমে যেসব রোগ ছড়ায়, ময়লা টাকার মাধ্যমে সেসব রোগসহ যে কোনও স্বাস্থ্যঝুঁকির জীবাণু ছড়ায়।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সি বলেন, ‘একজন মানুষ হাঁচি দেওয়ার পর যদি কোনও টাকা ধরে, তাহলে সেই টাকাতে হাঁচির শ্লেষা লেগে থাকে। আর এই শ্লেষা থেকেও মানুষ জীবাণুতে আক্রান্ত হতে পারে।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here