করোনা প্রকোপের মধ্যেই চীনে কুকুরের মাংস বিক্রির ধুম

0
55

বেইজিংয়ে আবারো করোনা প্রকোপ দেখা দিলেও কুকুর খাওয়ার উৎসবকে সামনে দক্ষিণ চীনের ইয়ুলিনের প্রাণী বাজারে কুকুরের মাংসের বিক্রির ধুম পড়েছে। যদিও চীন সরকার বেইজিংয়ে কুকুর এবং বিড়ালের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। ইত্তেফাক

গত বছর ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে উৎপত্তি হয় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের। করোনা ভাইরাসের জন্য উহানের প্রাণী বাজারকে দায়ী করা হয়। ধারণা করা হয়, উহানের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সাথে বন্যপ্রাণীর মাংসের সম্পর্ক উদ্ভাবন হবার পর কুকর এবং বিড়াল খাওয়া নিয়ে নড়েচড়ে বসে চীন সরকার। ২৯ মে চীনে কুকুর এবং বিড়ালকে পশুসম্পদের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা করে দেয়। এছাড়া শেনজেনসহ বিভিন্ন শহরে কুকুর এবং বিড়ালের মাংস খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

জানা গেছে, কুকুর খাওয়ার উৎসব দিয়ে গ্রীষ্ম উদযাপনের করেন চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা। আর এ জন্য অনেক অঞ্চলেই দেদারছে কুকুর নিধন শুরু হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চীনের সরকার খুব শিগগির এই নিষ্ঠুর প্রথা পুরো চীনজুড়ে বাতিল করবে

এ বছর ২১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চীনে কুকুর খাওয়ার উৎসব হওয়ার কথা হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রথম এই উৎসবের প্রচলন শুরু হয়। এই উৎসবকে সামনে রেখে চীনে ১০ থেকে ১৫ হাজার কুকুরকে জীবিত সেদ্ধ অথবা পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এবারের উৎসবকে কেন্দ্র করেও ইয়ুলিন শহরের প্রাণী বাজারে কুকুরের মাংস বিক্রি বেড়ে গেছে। অনেক কুকুরকেই খাঁচায় আটকে রাখা হয়েছে হত্যা করার জন্য।

এই বিষয়ে প্রাণী অধিকার বিষয়ক দাতব্য সংস্থা হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইয়ুলিন শহরে এক কেজি কুকুরের মাংস ৬০ থেকে ৭০ ইউয়ান বা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০টি কুকুর ছানাকে কসাইদের হাত থেকে বাঁচানো হয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।

হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের কর্মী জ্যানিফার চেন বলেন, আমার হাত কাঁপছিল যখন আমি কুকুর ছানাদের খাঁচা থেকে বের করে আনি। চীন সরকার বলে দিয়েছে যে কুকুর পশু সম্পদ নয়। ইয়ুলিন শহরেরও এই কথা মানা উচিৎ এবং লজ্জাজনক কুকুরের মাংসের ব্যবসা বন্ধ করা উচিৎ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here