কালুরঘাটে সেতু নির্মাণে ১১‘শ ৬৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

0
529

গণমাধ্যম ডেস্ক:  দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর চট্টগ্রাম। বৃহত্তর সমুদ্র বন্দর এবং রপ্তানী প্রক্রিয়া করতে এ অঞ্চলটি শিল্প উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শিল্প উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু হলেও বর্তমানে এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নয়ন করা দরকার বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগের জন্য কর্ণফুলী নদীর ওপর ২টি সড়ক সেতু ও একটি পুরাতন ও দুর্বল রেল সেতু রয়েছে। যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য পুরাতন এ রেল ও সড়ক সেতুর পরিবর্তে একটি রেল-কাম-রোড সেতু নির্মাণ করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর একটি রেল-কাম-রোড সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ১৬৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানিয়েছে, ১৯৩১ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাটে ডুয়েলগেজ লাইন বিশিষ্ট এ রেল সেতুটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে এর সাথে সড়ক সেতু যুক্ত করে রেল কাম সড়ক সেতুতে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত ও জরাজীর্ণ এবং অপারেশনাল ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন ঘন্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করে। এ লাইনটি দিয়ে যখন ট্রেন চলাচল করে তখন সেতুতে অন্য কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয় না। এর ফলে সেতুর দুপাশেই প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট দূর করতে বর্তমানে বিদ্যমান সেতুটির পরবর্তীতে নতুন রেল কাম রোড সেতু নির্মাণ করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এ প্রকল্পটির উপর ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান এবং বাংলাদেশ যৌথভাবে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি সম্পন্ন করেছে। পরবর্তীতে প্রকল্পটি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কোরিয়া সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানালে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির ভিত্তিতে ২০১৬ সালে এক্সপোর্ট ইনপোর্ট ব্যাংক অফ কোরিয়া ফাইনাল ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, এ প্রকল্পটির ফাইনাল ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির ভিত্তিতে মোট এক হাজার ১৬৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মার্চ ২০১৮ থেকে আগস্ট ২০২৩ সালে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটির ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ি প্রকল্পটির ব্যয় এক হাজার ১৬৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ প্রকল্পটি গত ৭ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ি এটি সংশোধন করে আবার একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here