কিংবদন্তির নায়ক ফারুকের জন্মদিন আজ

0
493

বৃষ্টি আকতার: অভিনয় দিয়ে মুগ্ধ করেছেন সিনেমাপ্রেমি দর্শকদের। অস্ত্র হাতে লড়েছেন দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য। এনে দিয়েছেন স্বাধীন একটি দেশ। তাকে বলা হয় মিয়া ভাই। তিনি চলচ্চিত্র ইন্ডাষ্ট্রির একজন অভিভাবকতূল্য ব্যক্তিত্ব। বলছিলাম কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুকের কথা। তাঁর আজ জন্মদিন।

১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কখনোই জন্মদিনের আয়োজন ঘটা করে পালন করেননি। শৈশব থেকেই তা চলে আসছে। কারণ মাত্র আট বছর বয়সে ফারুক তার মা আফজালুন্নেসাকে হারিয়েছেন। মাকে হারানোর পর থেকেই যেন ফারুক জীবন সংগ্রামে পড়ে যান। তাই জন্মদিন নিয়ে কখনোই তার বিশেষ কোনো আগ্রহ ছিল না। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রয়াণের পর আর কখনোই নিজের জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করেননি এই নায়ক।

চিত্রনায়ক ফারুক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামনের ডাকে সারা দিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এনে দেন স্বাধীন সার্বভৌত্বের লাল সূর্য। বিশ্ব মানচিত্রে অঙ্কন করেন বাংলা নামের একটি দেশের জলছবি। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

এ বিশেষ দিনে দুটি তারকা আড্ডার অনুষ্ঠানে হাজির হবেন মিয়া ভাই খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুক। চ্যানেল আইয়ের পর্দায় দুপুর ১২ নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘তারকা কথন’ এ আড্ডা দেবেন ফারুক। সরাসরি এ অনুষ্ঠানে তাকে শুভেচ্ছা জানাবেন তার ভক্ত ও শুভকাঙ্ক্ষীরা। ফারুক চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়া বাকিটা সময় পরিবারের সঙ্গেই কাটাবেন।

এছাড়া আজ রাত ১০টায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল আরটিভির ‘এবং পূর্ণিমা’ অনুষ্ঠানে ফারুক তার জীবনের পছন্দ-অপছন্দ, ভালো লাগা, মন্দ লাগাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। পূর্ণিমার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করছেন সোহেল রানা বিদ্যুত।

ফারুক বলেন, আমার জন্মদিনে দুটি চ্যানেলের অনুরোধে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো  অনুভুতি নেই আমার। কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে খুব আদর করতেন। আর আগস্টেই আমরা তাকে নির্মমভাবে হারিয়েছি। সেই শোক আজও ভোলার নয়। তাই তার শোকেই কাটে এই মাসটি।

তাঁর পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। কিন্তু ফারুক নামে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর ও যৌবনে তিনি খুবই দূরন্তপনা ছিলেন। আর ওই সময়টা কেটেছে গ্রামের বাড়ী ও পুরান ঢাকায়। এখন তিনি থাকেন উত্তরায় নিজ বাড়ীতে।

গ্রামের বাড়ী গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণসোম গ্রামে। বাবা আজগর হোসেন পাঠান ছিলেন একজন ইসলামী মনষ্ক মানুষ ছিলেন। গান-বাজনা-সিনেমা তিনি কখনোই পছন্দ করতেন না। বলতে গেলে এক প্রকার বাবার অবাধ্য হয়েই মিয়া ভাই (ফারুক) চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ৫ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। ব্যক্তি জীবনে ফারুক ভালোবেসে করেন ফারজানা পাঠানকে। তাদের দাম্পত্য জীবনে ফারিহা তাবাসসুম নামের একটি কন্যা ও রওশন হোসেন নামের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত জলছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে ফারুকের অত্মপ্রকাশ হয়। প্রথম ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন মিষ্টি মেয়ে কবরী। এরপর ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় আবার তোরা মানুষ হ ও ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার আলোর মিছিল এ দুটি চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

১৯৭৫ সালে তার অভিনীত সুজন সখী ও লাঠিয়াল ছবি দুটি ব্যাপক ব্যবসা সফল হয়। ওই বছর লাঠিয়াল-এর জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৭৬ সালে সূর্যগ্রহণ ও নয়নমনি, ১৯৭৮ সালে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত আব্দুল্লাহ আল মামুনের সারেং বৌ, আমজাদ হোসেনের গোলাপী এখন ট্রেনেসহ বেশকিছু ছবিতে মিয়া ভাই খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুকের অভিনয়ন প্রশংসিত হয়।

চলচ্চিত্রের বাইরে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। গাজীপুরে অবস্থিত নিজ শিল্প প্রতিষ্ঠান ফারুক নিটিং ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন তিনি। মাঝে তিনি দীর্ঘ সময় কিডনি জনিত রোগে ভোগছিলেন। পরে সিঙ্গাপুরে থেকে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি খুব সুস্থ্য জীবন যাপন করছেন।

নিজের জন্মদিন প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, জন্মদিন মানে জীবন থেকে একটি বছর চলে যাওয়া। নতুন ভাবনা ভাবতে শেখা- এই আর কী। আগস্ট শোকের মাস। তাই কোনো জন্মদিনই ঘটা করে পালন করা হয় না। জন্মদিনে বিভিন্ন চ্যানেলে অনুষ্ঠানের হাজির হবো। রাতে পরিবারের সদস্যরা কেক কেটে জন্মদিন পালন করব। সবার কাছে দোয়া চাইছি, যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here