কুরআনের আয়াত লিখা কাগজ দিয়ে বই বাঁধাই করা যাবে কি?

0
230

সমাজে ধর্মীয় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়ে থাকে। আসলে যার কোনো ভিত্তি নেই অথবা ইসলাম ওই বিষয়গুলো সমর্থনও করে না। কিন্তু না জানা থাকার কারণে সাধারণ মানুষ বিষয়গুলো নিয়ে ভুল করে থাকে। এরকম কয়েকটি বিষয়ে আজকের প্রশ্নোত্তর।
প্রশ্ন. ঘরে ক্যালেন্ডার বা ওয়ালপেপারে পবিত্র কুরআনের আয়াত লিখা ব্যবহার হয়, আবার কখনো হাদিস পাওয়া যায়, কুরআনের আয়াত ও হাদিস লিখা এই ক্যালেন্ডার দিয়ে অনেকেই বই বাঁধাই করে থাকে। ইসলাম এ ব্যাপারে কি বলে?
উত্তর. পবিত্র কুরআনের আয়াত আল্লাহ তায়ালার কালাম আর পবিত্র হাদিস শরীফ হল নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা কাজ বা মতামত। তাই এটি প্রদর্শনের বস্তু হতে পারে না।
ক্যালেন্ডার সাধারণত বছর শেষে ফেলে দেওয়া হয়। আর এই ফেলে দেওয়া ক্যালেন্ডারটি হয়তো বা ডাসবিনে কিংবা অন্য কোথাও স্থান পায় এটা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের সাথে বেয়াদবি। যদি কারও কাছে এই ধরনের ক্যালেন্ডার থাকে থাকলে তা বছর শেষে যত্ন করে রাখতে হবে আর যত্ন করে না রাখতে পারলে তা পুরিয়ে ছাইগুলো কোনো পবিত্র স্থানে দাফন করে দিতে হবে। আর যদি ওয়ালপেপারে পবিত্র কুরআনের বা হাদিস লিখিত থাকে তাহলে তা পরিস্কার-পরিছন্ন করে রাখতে হবে। অন্যথায় গুনাহগার হবে এবং কুরআন হাদিস অবমাননাকারী হিসাবে গণ্য হবে। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৭; আদ্দুররুল মুখতার ৪/১৩০)
প্রশ্ন. কোনো ব্যক্তি মুসলমান হওয়ার পর সে তার কোনো আত্মীয় বা আত্মীয়র বাইরে কারও তত্ত্বাবধানে থাকলে, তাকে পিতা ও তার স্ত্রীকে মা হিসেবে সম্বোধন করতে পারবে কি? অথবা কাগকপত্রে তাদের পরিচয় ব্যবহার করতে পারবে কি? ইসলাম এবিষয়ে কি বলে?
উত্তর. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে, জন্মনিবন্ধের ফরমে ও জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মদাতা পিতার নামই লিখতে হবে। (স্বাভাবিকভাবে তাদেরকে পিতা-মাতা হিসাবে ডাকতে পারবে) অমুসলিম পিতা-মাতার নাম ব্যবহার করলে কোনো ধরনের ক্ষতি নেই এবং ইমানেরও কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ যে সকল সাহাবায়ে কেরামের পিতা মুসলমান ছিল না তারাও মুশরিক পিতার নামের সাথেই পরিচিত হতেন। এ বিষয়টিকে কেউ দোষের চোখে দেখতেন না। (সুরা আহযাব,আয়াত:৪-৫; বুখারী শরীফ ২/১০০১; মুসলিম শরীফ ১/৫৭)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here