কুলাউড়ার মনি আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের তালিকায়

0
268

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে মনি বেগম। বয়স যখন তার ১২ তখন নিজের বড় বোনকে স্বামীর হাতে নির্যাতিত হতে দেখেছিলো। তার বড় বোনের বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১২ বছর বয়সে। সে সময় তার এক বান্ধবী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছিল। বান্ধবীর বাল্যবিয়ে আটকে দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল সে। কিন্তু সেই ব্যর্থতা অদম্য সাহসী মনিকে আরো সাহসী করে তোলে।

বাংলাদেশের সেই মনি বেগমর এবার আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির তালিকায় নিজের স্থান করে নিয়েছে। সে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে এ পর্যন্ত বাল্যবিয়ের হাত থেকে ২০০টিরও বেশি মেয়েকে রক্ষা করেছে।

গত ২০ নভেম্বর কিডস রাইট ফাউন্ডেশন এ বছরের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করে। ৪৫টি দেশের ১২১ জন শিশুদের নিয়ে এ জরিপ করা হয়। সেখান থেকে প্রথম তিনজনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে সংস্থাটি। এ তালিকায় বাংলাদেশ থেকে স্থান পান ১৭ বছর বয়সী মনি বেগম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চার ছেলের মার্চ ফর আওয়ার লিভস্ নামে একটি গ্রুপ, আর আফ্রিকার দেশ সামুয়া থেকে লিলুয়া। গত ১৬ নভেম্বর কিডস রাইটস তাদের পাতায় মনি বেগমের একটি ভিডিও পোস্ট করে।

মনি বেগমের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ঘড়গাঁও গ্রামে। তার পিতা মহরম আলী পেশায় একজন রিকশা চালক ছিলেন। বর্তমানে এলাকার একজনের বাড়ির কেয়ার টেকার। মা হাওয়ারুন বেগম একজন গৃহিণী। পরিবারের ৪ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে মনি বেগম সবার ছোট।

মনি ২০১৭ সালে নারী ও শিশু এবং বাল্যবিয়ে নিয়ে কাজ করার জন্য বিডি পেক্স ফাউন্ডেশন নামে একটি ক্লাব গঠন করে। আশেপাশের গ্রামে গিয়ে মেয়েদের উৎসাহ ও সাহস দিতে শুরু করেন। ফাউন্ডেশনের একটি সার্ভিসিং গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৩০ জন। মনি বেগম জানায়, সত্যি বলতে কি উক্ত পুরস্কার সম্পর্কে এখনই আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ২০১৫ সালের পর থেকে আমার কাজের ধারাবাহিকতার স্বীকৃতির জন্য আমি অনেক গর্বিত ও আনন্দিত। আমার আগামী পথচলায় সকলের সহযোগিতা চাই।

আসোকা বাংলাদেশের কনসালটেন্ট সৌরভ রায় জানান, কুলাউড়ার মনি শিশু শান্তি পুরস্কারের সেরা তিনজনের চূড়ান্ত তালিকায় থাকলেও সে যে এবার প্রথম হবে তা আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।
উল্লেখ্য, মনি বেগম ২০১৫ সালে শিশু প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে বাল্যবিয়ে নিয়ে বক্তব্য প্রদান করে। ২০১৬ সালে ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার কর্তৃক ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে একজন নির্বাচিত হয়। ২০১৭ সালে সেভ দ্যা চিলড্রেনের মাধ্যমে এশিয়ার মধ্যে চ্যাম্পিয়ান গার্লস নির্বাচিত হয়। ২০১৭ সালে আসোকা বাংলাদেশের একজন ইয়ুথবেঞ্চার হিসেবে নির্বাচিত হয়। ২০১২ থেকে এপর্যন্ত ব্রাকের কিশোরী নেত্রীর দায়িত্ব পালন করে চলেছে কুলাউড়ার মনি বেগম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here