কুলি থেকে আলিশান বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ির মালিক !

0
172

নাম তার আলমগীর সৈকত। পেশাগত পরিচয় কুলি। কর্মস্থল তেজগাঁওস্থ সরকারের কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম (সিএসডি)। ২৮ বছর আগে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে তিনি এখানে যোগ দেন। তবে অন্য দশজনের মতো না হেঁটে তিনি বেছে নিয়েছেন একটু বাঁকা পথ। আর তাতেই কুলি থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। রাজধানীতে দুটি বাড়ি ও একটি ফ্ল্যাটের মালিক আলমগীর সৈকত চলাফেরা করেন বিলাসবহুল গাড়িতে; পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্যও রয়েছে আরেকটি গাড়ি। র্যাব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সিএসডিতে কুলি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর আলমগীর সৈকত ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন সরকারি চাল-আটা পাচারের সিন্ডিকেটে। হাতিয়ে নিতে থাকেন অবৈধ অর্থ। আর এই অর্থের দাপটে ধীরে ধীরে শ্রমিক ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বনে যান শ্রমিক নেতা। বর্তমানে তিনি তেজগাঁও সিএসডি শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা। নিজেই গঠন করেছেন ডিলারদের একটি অ্যাসোসিয়েশনও। সিএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, আলমগীর সৈকত মূলত বিএনপির শাসনামলে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ-বিত্তের মালিক হন। এর পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগ ঘরানার শ্রমিক নেতা বনে যান।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বছরের পর বছর সরকারি চাল-আটা পাচার করেছেন আলমগীর সৈকত। শুধু তাই নয়, রেলের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছেন প্রায় আটটির মতো পাকা ঘর। এসব থেকে মাসে দেড় লাখের বেশি ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছেন এই শ্রমিক নেতা।

তদন্ত সূত্রে উঠে আসা তথ্যে দেখা গেছে, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীতে তার নিজের দুটি বাড়ি ছাড়াও ফার্মগেটে রয়েছে আলিশান একটি ফ্ল্যাট। নিজে ব্যবহার করেন টয়োটা এলিয়ন মডেলের একটি প্রাইভেট কার। পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য রয়েছে একই ব্রান্ডের আরেকটি গাড়ি।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলমগীর সৈকতের মোবাইল ফোনে কল দিয়েও তার সাড়া মেলেনি। পরে পেশাগত পরিচয় দিয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও সাড়া দেননি তিনি। পরবর্তীতে সিএসডি কার্যালয়ে গিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।প্রসঙ্গত, গত ৮ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও সিএসডিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে বিপুল পরিমাণ চাল-আটা পাচারের চিত্র হাতেনাতে ধরা পড়ে। পাচারকৃত ২১৫ টন সরকারি চাল-আটা সিএসডি ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট থেকে উদ্ধার করা হয়।

মূলত এ অভিযানের পরই বেরিয়ে আসতে থাকে সরকারি খাদ্যশস্য লুটপাটের বিস্ময়কর তথ্য। ইতোমধ্যে ২৩ জনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছে র্যাব। ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে দুদক।সূত্র জানায়, সিএসডি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুদু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ও প্রধান দারোয়ান হারেজেরও বিপুল অর্থের খোঁজ পেয়েছেন দুদকের তদন্তকারীরা। তাদের বিরুদ্ধেও তেজগাঁওয়ে রেলওয়ে ও সিএসডির সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ঘর গড়ে ভাড়াবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সুত্র : আমাদেরসময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here