কুয়ালালামপুরে ইসলামি সম্মেলনে স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন ও মুদ্রাবিহীন পণ্য বিনিময় বাণিজ্যে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন মাহাথির

0
33

মার্কিন ডলারের আধিপত্য ও বাণিজ্যে অবরোধ মোকাবেলায় ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও কাতার স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন সহ বার্টার ট্রেডে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো অর্থনৈতিক আগ্রাসন বা নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় এমন বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলবে দেশগুলো। কুয়ালালামপুরে সদ্য সমাপ্ত চারদিনের ইসলামি সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এধরনের বাজার ও বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেন মুসলিম নেতারা। তারা বলেন মার্কিন ডলারের একচেটিয়া আধিপত্য খর্ব করা ছাড়াও অবরোধ দেয়ার পর ডলারের মাধ্যমে লেনদেন নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে বলে আমদানি ও রফতানি অচল হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট দেশটির অর্থনীতি সংকটে পড়ে। তাই স্বর্ণমুদ্রা বা পণ্য ভিত্তিক বিকল্প আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আরটি

তবে এ সম্মেলনে যোগদান থেকে বিরত থাকে সৌদি আরব। কাতারের ওপর সৌদি আরব তার মার্কিন মিত্র ও উপসাগরীয় প্রতিবেশি মিসর, আমিরাত ও বাহরাইন মিলে যে অবরোধ দিয়ে রেখেছে কিংবা ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর অর্থনৈতিক অবরোধ ও তেল রফতানি নিষিদ্ধ আরোপ করে রেখেছে তাতে এধরনের বিকল্প আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সাহায্য করবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের ফলে কাতার ও ইরানকে যে তিক্ত পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবেলা করতে হয়েছে ভবিষ্যতে অন্য কোনো মুসলিম দেশকে একই জটিলতায় পড়তে হতে পারে এবং এ বিষয়টি মনে রাখা উচিত। মাহাথির বলেন, কাতার ও ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে একতরফাভাবে। তাই পরামর্শ দিয়ে বলছি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ইসলামী যুগের সেই স্বর্ণমুদ্রা ‘দিনার’ ফিরিয়ে এনে এবং পণ্যভিত্তিক বাণিজ্যিক লেনদেন বা বার্টার ট্রেড চালু করা প্রয়োজন। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি এবং এ উদ্যোগ চালুর জন্যে কার্যকর পন্থা গ্রহণ করা হবে।

মাহাথির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একতরফা অবরোধ আরোপ করেছে যুগান্তকারী পারমানবিক সমঝোতা চুক্তি থেকে সরে গিয়ে। এরফলে তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশাল বাজার হারাতে হয়েছে, তেল রফতানি বিকল্প পদ্ধতিতে করতে হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে অনেক জটিলতায় পড়তে হয়েছে।

কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করার পর দেশটি এধরনের অভিযোগ একাধিকবার অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু মুসলিম দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় পর্যন্ত যেতে পারেনি। কুয়ালামপুরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়্যেপ এরদোগান মুসলিম দেশগুলোকে ডলারের বিকল্প হিসেবে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন করার আহবান জানান। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে দরকষাকষি উল্লেখ করে এরদোগান হুঁশিয়ার করে বলেন, মুসলিম দেশগুলোর বাজার ও অর্থনীতি রক্ষার জন্যে নিজেদের মুদ্রায় বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা অবিলম্বে চালু করা উচিত। কারণ অবরোধের নামে যাতে কোনো মুসলিম দেশকে অর্থনৈতিক আগ্রাসনের ধাক্কা সামাল দিতে না হয় এজন্যেই এধরনের বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা তার অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে।

এরদোগান বলেন, মুসলিম দেশগুলো বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে বাঁচতে চাইলে নিজস্ব মুদ্রায় লেনেদেনের কোনো বিকল্প নেই। আর তা না হলে মুসলিম দেশগুলোর পক্ষে অবরোধের মত ধাক্কা বা ভঙ্গুর অবস্থা এড়ানো সম্ভব হবে না। ইসলামি সামিটে এ বিষয়টি প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। একই সঙ্গে সুদ মুক্ত ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে এরদোগান সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশা ও রোডম্যাপ প্রণয়নের পরামর্শ দেন।

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান বিক্রি বন্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ করে। এছাড়া এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্ক যৌথ ব্যবস্থায় তৈরি করা হলেও তা থেকে দেশটিকে বাদ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তুরস্ক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় থেকে সরে দাঁড়ায়নি। এর আগেও প্রেসিডেন্ট এরদোগান অন্যান্য দেশগুলোকে মার্কিন ডলারের মনোপলি বা আন্তর্জাতিক লেনদেনে একক মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের বিকল্প তৈরির আহবান জানান। তিনি বলেন, ডলারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনে বন্য নেকড়ের মত আচরণ করছে। একই সঙ্গে তুরস্কের অর্থনীতিকে মার্কিন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত করায় তিনি তার দেশবাসিকে ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রা লিরা ব্যবহারের আহবান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here