কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়, আবার কেউ আইনের নিচেও নয়- রিজভী

0
264

বৃষ্টি আকতারঃ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য শহিদুল আলমের উপর অকথ্য পুলিশি নির্যাতনকে উৎসাহিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, ভাটারবিহীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় প্রখ্যাত আলোকচিত্রি ড.শহিদুল আলমের গ্রেফতার নিয়ে বলেছেন কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।

শনিবার দুপুরে (১১ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি উপদেষ্টা সাহেবকে মনে করিয়ে দিতে চাই কেউ যেমন আইনের উর্ধ্বে নয়, তেমনি কেউ আবার আইনের নীচেও নয়। No body is the above the law and no body is below it আবার কালো আইন বলে একটি কথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে আর কালো আইন বা Bad laws are the worst sorts of tyranny.

রিজভী বলেন, উৎপীড়ন করার জন্যই যে ৫৭ ধারা তথ্য প্রযুক্তি আইনে সংযোজন করা হয়েছে সেটি এখন প্রতি মুহুর্তে ফুটে উঠেছে। কোন বিতর্ক ছাড়াই একদলীয় পার্লামেন্টে তথ্য প্রযুক্তি আইন পাস করে সেই আইনের ৫৭ ধারা প্রযোগ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে টুটি চেপে ধরা হয়েছে। লেখক, বুদ্ধিজীবী, কলামিষ্ট, রাইট্সগ্রুপ, মুক্ত চিন্তার মানুষদের মাথার উপরে ৫৭ ধারার তরবারী ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর এই কালো আইনের ৫৭ ধারা নির্মম প্রয়োগে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার ড. শহিদুল আলমকে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দেশবাসীকে জানাবেন কী কতটুকু আইনের ঊর্ধ্বে উঠলে একজন খ্যাতিমান মানুষ পুলিশী শারিরীক নির্যাতন থেকে রেহাই পান বা পান না ? সভ্যদেশে স্বনামধণ্য মানুষরা দুরে থাক একজন সাধারণ অপরাধীকেও কি শারিরীক নির্যাতনে দৃষ্টান্ত আছে ? এর দৃষ্টান্ত থাকলে উৎপীড়নকারী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কি দশা হয় তাওতো জয় সাহেবের অজানা থাকার কথা না। কারণ তিনি তো একটি শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশে থাকেন।

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, পরিবহন সেক্টরের অরাজকতার দায়ী নৌমন্ত্রীসহ এ সেক্টরের গডফাদাররা মাফ পেয়ে যান আর শিক্ষার্থীরা ন্যায়ের আন্দোলনের জন্য সরকারি জুলুমের শিকার হন। শিক্ষার্থীরাই আন্দোলন চলাকালে পথচারিদের বলেছে ওভার ব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহার করতে, গাড়ির চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখতে।

তিনি বলেন, লোক দেখানো খসড়া আইন যে একটা শুন্যকুম্ভ সেটা এখন প্রতিমুহুর্তে তার আলামত দেখা যাচ্ছে। সড়কের দুর্ঘটনাতো কমেনি বরং সড়কে লাশের জমায়েত দীর্ঘ হচ্ছে। সড়কে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। পরিবহনখাতে বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে, যার প্রমাণ মন্ত্রীর গাড়িও রেহাই পায়নি। গতকালও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িকে ধাক্কা দিয়েছে একটি বেপরোয়া বাস, যার চালক ছিল হেলপার।

রিজভী বলেন, আন্দোলন দমানোর নামে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন বেপরোয়া চালকদের আরও বেশী বেপারোয়া করেছে। সড়কে নৈরাজ্য আর ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কারণ পরিবহন সেক্টরের হঠকারী ও অবিমৃশ্যকারিতার জনক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এখনও নির্লজ্জভাবে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here