কোটা মুক্ত মেধাবিরাই বাংলাদেশে দুর্নীতির পত্তন করেছে

0
222

প্রথমদিকে কোটা মুক্ত আন্দালনে মনে মনে সমর্থন করেছি। মনে
হয়েছে, প্রতিবছর প্রায় ২৬ লাখ লোক দেশে বেকার হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকুরি সংখ্যায় কম হউক কিন্তু কোটা দিয়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয়া উচিত না।এখন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে দেখেছি আসলে কোটা রাখাই উচিৎ ও রাখাটাই ন্যায়সঙ্গত। মত পাল্টানোর কিছু কারণ লিখলাম। যেমন দুর্নীতি দমন কমিশনে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে প্রকৌশলিদের বিরুদ্ধে। তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। দেশের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে তাদের পিছনে। এটি বললাম এ কারনে যে, বাংলাদেশের মেধাবিরা গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশকে কি দিয়েছে। তার একটি হিসাব বের করার জন্য। গরিব মেধাহিন সাধারণ দুধওয়ালা আগে দুধে জল মেশাতো। এখন দুধে ফরমালিন মেশানো হয়। এই প্রযুক্তিতো দুধওয়ালার জানার কথা না। কারা শিখিয়েছে সেই মহাবিদ্য। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেধাবী ছাত্ররা। যাদের পিছনে ব্যয় হয় সরকারের শিক্ষা ব্যয়ের ৬০ শতাংশ। ভেজাল ওষুধ, অকারণে মেডিক্যাল টেস্ট, ওষুধ কোম্পানির সুবিধা, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা। এগুলো করেছে মেধাবি চিকিৎসকেরা। জজ, ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সবাই মেধাবী। এই মেধাবীরা অত্যন্ত পরিশ্রম করে লেখাপড়া করে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। তারপরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। পরে বিসিএসদিয়ে চাকুরি পেয়েছে। কত মেধার কাজ। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় তারা যা করেছে সেতো নিজের জন্যই করেছে। মেধাহীনরা এই মেধাবিদের সম্বর্ধনাও দিয়েছে। আর আশাবাদ ব্যাক্ত করেছে । যাতে মেধাবিরা সমাজের জন্য দেশের জন্য কিছু একটা করে। কিন্তু তারা কিছুই করেনি। মেধাহিন হয়তো ঠিকাদার হয়েছে। মেধাবি কর্মকর্তা বা প্রকৌশলি সেই মেধাহিনকে শিখিয়েছে কিভাবে ফাঁকি দিতে হয়। তার বিনিময়ে অর্থ নিয়েছে। মেধাবিদের এমন কিছু খোঁজে পাওয়া যাবে না যাকে সম্মান করা যায়। এই মেধাবিরা দেশকে এমন কিছু দেয়নি যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। না খেলা না বিজ্ঞান, না দর্শন না সাহিত্য, না বণিজ্য, না রাজনীতি। কোথাও মেধাবিরা নেই। বাংলাদেশের যা অর্জন সবইতো মেধাহীনদের। মেধাবিরা শুধু দেশ নয় নিজের পরিবারেও সবচেয়ে বেশি ভোগ করেছে। আর দেবার সময় সবচেয়ে কম দিয়েছে। ঘরের ভাল খাবারটা সেই খেয়েছে। বেশি আদর সেই পেয়েছে। এই কথাগুলো বললাম কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। মেধাবিরা আন্দোলন করছে সরকারি চাকুরিতে কোটার বিরুদ্ধে। তাদের যুক্তি কোটার কারণে মেধাবিরা চাকুরিতে প্রবেশ করতে পারছে না। এখন মনে হচ্ছে কি দরকার মেধাবিদের এত চাকুরি দেবার। যাদের সমাজ উন্নয়নে কোন অবদান নেই। বরংচ সমাজকে দুষিত, কুলষিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। এই মেধাবিদের দিয়ে আমরা কি করবো। আমি নিজে মেধাহিন । একারনে ও অন্যান্য যুক্তিতেও মেধাহীনদের জন্য অবশ্যই ৮০ ভাগ কোটা চাই। তারাই এই বাংলাদেশটাকে এগিয়ে নিতে পারবে।

বিশ্বজিৎ দত্ত

নিবার্হী সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here