কোনও পুলিশ সদস্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

0
184

রিবহন মালিক-শ্রমিক-পথচারীরা ট্রাফিক আইন মানেন না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও আইন মানে না। আমরা কেউ আইন মানতে চাই না। তাহলে কীভাবে সড়কে আইনশৃঙ্খলা ফিরে আসবে? পুলিশের কোনও সদস্য যদি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্সনীতি চলবে।’ শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ চত্বর এলাকায় (ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পিছনে) ট্রাফিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। নিজেদের বদলাতে হবে, অন্যকেও বদলে দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ নেই, আমাদের দুর্ভাগ্য হাত উঁচু করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। দিনে কমপক্ষে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা অমানবিক পরিশ্রম করছেন আমাদের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। রোদ, বৃষ্টি ঝড়ে ডিউটি করছেন তারা। এরপরও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক ধরনের প্রভাবশালীর চাপ সহ্য করতে হয়। অনেকে পেছন থেকে টেনে ধরতে চায়। কখনও কখনও আমাদের আপস করতে হয়। কিন্তু সেটা আমরা চাই না।’

বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েতউল্লাহর উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পাল্লা দিয়ে গাড়ি চলাচল, যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে লোক তোলা বন্ধ করতে হবে। আপনি বাস চালকদের সঙ্গে মিটিং করেন, প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে নেন। তাদের উদ্বুদ্ধ করা দরকার যে, এক বাস স্টপ থেকে আরেক বাস স্টপে গাড়ির দরজা বন্ধ থাকতে হবে। যারা করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। সর্বোপরি বাস স্টপেজ ছাড়া বাস দাঁড়াতে পারবে না।’
পথচারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করি না, আন্ডার পাস ব্যবহার করি না, মোবাইল কানে নিয়ে রাস্তা পারাপার হই। দুর্ঘটনা ঘটলে চালকদের দায়ী করি, এটা হতে পারে না।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘দেশে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। আমাদের রাজধানীতে পর্যালপ্ত আন্ডার পাস নেই। এগুলো যদি ব্যবস্থা করা না যায়, তবে দেশে বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীকে শুধু জরিমানা করে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বর্তমানে ট্রাফিক আইন নিয়ন্ত্রণের জন্য যে অবকাঠামো রয়েছে, সেটি আরও দিগুণ করতে হবে।’
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘৯০ শতাংশ মানুষ আইন মানে না। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের একার পক্ষে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। চালক, মালিকসহ সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস সময়-সীমা বেঁধে দেয়া হোক। এসময় নিজেরাই ট্রাফিক আইন মানার বিষয়ে চালক ও শ্রমিকদের শেখাবে। তিন মাস পর যদি কেউ আইন ভঙ্গ করে, তবে শুধু চালককে নয়, ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকেও জরিমানা করা হবে। এতে সবাই সড়কে ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য হবে।’
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ডিউটি শেষ করে আপনি যেন আপনার সাইকেলটি নিয়ে উল্টো পথে ঢুকে না পড়েন। এমন কোনও কাজ করা যাবে না, যাতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ হয়।’
বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সড়ক পরিবহন সেক্টরে সব চেয়ে বেশি নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এজন্য শুধু চালক একা নয়, পথচারীরাও দায়ী। পথচারীরা মোবাইল ফোন কানে দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পতিত হলে সেটি একা চালকের দোষ নয়, ওই পথচারীও দোষী।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here