কোনো বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্ত নিবেন যেভাবে

0
200

মানুষের ক্ষুদ্র চিন্তায় অনেক বিষয় ভালো মনে হলেও পরিণতি ভিন্নরকম দেখা যায়। এজন্য পরবর্তীতে যেন লজ্জিত না হতে হয় এ ব্যাপারে ইসলামের শিক্ষা হলো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে প্রথমে আমাদের কর্তব্য ইস্তিখারা করা, আল্লাহর কাছ থেকে সঠিক দিক নির্দেশনা চেয়ে নেওয়া। যেমন জাবের রা. থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি – তিনি বলেন, ‘নবীজি সা. আমাদেরকে যে কোনো কাজ করার পূর্বে ইস্তিখারার নির্দেশ দিতেন। তাই ইস্তিখারার দোয়া এমনই গুরুত্ব দিয়ে মুখস্থ করাতেন যেমন গুরুত্ব দিয়ে মুখস্থ করাতেন কুরআনের সূরা।’

ইসতেখারার নিয়ম এই যে, প্রথমে দুই রাকাত নফল সালাত পড়ে এই দু‘আ পাঠ করবে-

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ কামনা করছি। আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার কাছে শক্তি কামনা করছি এবং আপনার মহা অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা আপনি শক্তিধর, আমি শক্তিহীন, আপনি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন। আর আপনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী। হে আল্লাহ! এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজ বা বিষয়টি উল্লেখ করবেন) আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার পরিণতির ক্ষেত্রে অথবা ইহলোক ও পরলোকে কল্যাণকর হয়, তবে তাতে আমাকে সামর্থ্য দিন। পক্ষান্তরে এই কাজটি আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দ্বীন, জীবিকা, ও পরিণতির দিক দিয়ে অথবা ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিকর হয়, তবে আপনি তা আমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং আমাকেও তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং কল্যাণ যেখানেই থাকুক, আমার জন্য তা নির্ধারিত করে দিন। অতপর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখুন। (অতপর আপনি নিজ প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবেন।)” (বুখারী : ১১০৬; মুসলিম : ১৫৪০)

ইসতেখারা করার পর কোন কাজ করলে কিংবা কাজটি কিভাবে করলে বেশি ফলদায়ক হবে তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির শরণাপন্ন হোন। তারপর দৃঢ় চিত্তে কাজটি করে ফেলুন। আর তার ফলাফলের ভার ছেড়ে দিন আল্লাহর হাতে। আল্লাহ যা করবেন তাতেই সন্তুষ্ট হবার মানসিকতা গড়ে তুলুন। সংকল্প করার পর আর দ্বিধায় ভুগবেন না। পরামর্শের বিষয়ে স্বয়ং নবী সা. কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, অথচ তাঁর কাছে অহী নাযিল হত। আল্লাহ জাল্লা শানুহূ বলেন, ‘আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরার্মশ কর। অতঃপর যখন সংকল্প করবে তখন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন,‘আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই।’ (সূরা তালাক, আয়াত: ০৩)

সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, ‘আদম সন্তানের সৌভাগ্যের বিষয়সমূহ থেকে একটি হল ইস্তিখারা করা এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা। আর মানুষের দুর্ভাগ্য হল ইসতেখারা না করা ও আল্লাহর ফয়সালার ওপর অসন্তুষ্ট থাকা।’ (তিরমিযী : ২৩০৪; মুসনাদ আহমদ : ১৩৬৭)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here