কোরবানির আগেই মসলা বাজারে আগুন

0
501

গণমাধ্যম ডেস্কঃ আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে কাঁচারবাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে।বাজারে মাছ ও মাংসের দাম সহনীয় অবস্থায় থাকলে মসলা ও সবজির দাম উর্ধ্বগতি রয়েছে। ক্রেতারা এ দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের দোষলেও তারা বলছে  গত কয়েকদিন ছাত্র আন্দোলনের কারণে বাজারে খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ কম ও পাইকারী বাজারে মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় দাম বেড়েছে এগুলোর। যা ঈদ অবধি থাকবে।

কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা সাধারণত বেশি থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগান কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বাড়িয়েছে। এর মধ্যে জিরা, এলাচি, গোলমরিচ, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বেশি।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ‘পাইকারি বাজারে মূল্য বৃদ্ধি’-কে দায়ী করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তবে পাইকাররা বলছেন উল্টো কথা। দাম বাড়ার কোনো খবরই নেই তাদের কাছে। মসলার মজুত পর্যাপ্ত, আগামীতেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে দাবি তাদের।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর মুগদা, খিলগাঁও, মালিবাগ, হাতিরপুল, ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মান অনুসারে প্রতি কেজি জিরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, তেজপাতা ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, দারুচিনি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, লবঙ্গ ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়, এলাচি ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকায় , কালো গোলমরিচ ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায়, সাদা গোলমরিচ ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, জয়ফল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, জয়ত্রী ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা , কিসমিস ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, আলু বোখারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, কাঠবাদাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়, পোস্তাদানা ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নানা ধরণের মসলা। ছবি: সংগ্রহ

দাম বৃদ্ধির তালিকায় আছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ। মান অনুসারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। আমদানি পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। দেশি ছোট রসুনের দাম পড়ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

এদিকে, সরকারি বাজার মনিটরিং সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে জিরা, দারুচিনি, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম। সংস্থাটি বলছে, এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা, মানভেদে ৭০ থেকে ১২০ টাকার আদা বেড়ে হয়েছে ৯০ থেকে ১৪০ টাকা। আমদানি রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। এখন আমদানি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়; যা এক মাস আগে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ৩০০ টাকার দারুচিনি ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া এক মাস আগে এলাচি বিক্রি হয়েছে ১৬শ’ থেকে দুই হাজার টাকায়; যার বর্তমান মূল্য দেয়া হয়নি।

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মালিবাগের মুদি ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মসলার দাম চড়া। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহে মৌলভীবাজার থেকে মসলা কিনেছিলাম। আগের তুলনায় এলাচি ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এছাড়া জিরা, গোলমরিচসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দামও বাড়তির দিকে।

ঈদের আগে দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান এ খুচরা ব্যবসায়ী।

 

মসলার দাম বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী এনায়েতুল্লাহ বলেন, এবার প্রচুর আমদানি হয়েছে। বাজারে মসলার অভাব নেই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এখন ব্যবসা খারাপ। আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না।

 

এদিকে, রাজধানীর বাজারগুলোতে শনিবার গত সপ্তাহের দামে সবজি বিক্রি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রতি কেজি গাজর ৬০ টাকায় বিক্রি হয়, যা গত সপ্তাহে একই দাম ছিল। বরবটি প্রতি কেজি ৫০-৫৫ টাকা। প্রতি কেজি শসা ৬০-৬৫ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা মানভেদে ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়। কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, মাঝারি আকারের লাউ প্রতিটি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

হাতিরপুল কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী ফয়সাল তনু বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে তাই বিক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের মসলা চড়া দামে বিক্রি করছে। সবজিও বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে। যেন দেখার কেউ নেই।

অন্যদিকে, মাছ ও মাংসের বাজারে অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে। প্রতি কেজি রুই ও কাতলা ২৩০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে একই দামে বিক্রি হয়। কেজিপ্রতি বড় আকারের চিংড়ি এক হাজার টাকা, মাঝারি আকারের চিংড়ি ৭০০-৭২০ টাকা ও ছোট আকারের চিংড়ি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কেজিপ্রতি তেলাপিয়া ১৩০-১৪০ টাকা, কই ১৪৫-১৫৫ টাকা, সিলভার কার্প ১০০-১৩০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১১০-১৩০ টাকা, নলা ১২৫-১৩৫ টাকা ও সরপুঁটি ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাংসের বাজারও স্থিতিশীল।

শুক্রবার ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা। পাকিস্তানি মুরগি আকারভেদে ১৫০-৩০০ টাকা, লেয়ার ২০০ টাকা ও গরুর মাংস ৪৭০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here