কোরবানি ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫৯ আহত ৯৬০

0
214

দুল আযহার যাত্রা শুরুর দিন ১৬ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বিগত ১৩ দিনে ২৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ৯৬০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রি কল্যাণ সমিতি ।
শুক্রবার (৩১ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদুল আযহায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৮ তে এই তথ্য তুলে ধরেন। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

দুর্ঘটনায় হতাহতের মধ্যে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৪ জন চিকিৎসক, ২ জন প্রকৌশলী, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন শিক্ষক, ২০ জন শিক্ষার্থী, ৪২ জন চালক-হেলপার, ৫৯ জন নারী, ৩৪ জন শিশু ও ০৮ জন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ, র‌্যাব, বিআরটিএ ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নানামুখী তৎপরতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোড়দার থাকায় এবারের ঈদযাত্রায় বিগত ঈদুল ফিতরের তুলনায় দুর্ঘটনা ১৪.৪৪ শতাংশ, প্রাণহানী ২৩.৫৯ শতাংশ এবং আহত ২৪.১১ শতাংশ কমেছে। তবে গত বছরের ঈদুল আযহার তুলনায় দুর্ঘটনা ১৩.৫০ শতাংশ ও আহত ১১.৬৭ শতাংশ বেড়েছে।

এ বছর কোরবানি ঈদ যাত্রায় নাটোরের লালপুরে বাস ও লেগুনা সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। ফেনীর মুহুরীগঞ্জে গরু বোঝাই ট্রাক-মাইক্রো বাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ জনসহ ৭ জন নিহত হয়। নরসিংদীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হয়। ফেনীর লেমুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়। এদিকে ভাড়া নিয়ে তর্কের জেরে চট্টগ্রামের সিটি গেইটে রেজাউল করিম রনি নামে এক যুবককে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়, ময়মনসিংহের নান্দাইলে লেগুনা ও সিএনজি-অটোরিক্সা থামিয়ে চাঁদা আদায়ে প্রতিবাদ করায় ৪ যাত্রীকে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সংগঠিত দুর্ঘটনার যানবাহন পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২৯.১৮ শতাংশ বাস,২৩.৬ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬.৬ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৫.৯ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক, ১১.১৫ শতাংশ অটোরিক্সা, ৬.৯ শতাংশ কার-মাইক্রো ও ১৬.৭২ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯.১৬ শতাংশ অনান্য যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। মোট সংঘঠিত দূর্ঘটনার ৩১.৩৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪.৩৫ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা, ১৭.৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা, ১.১০ শতাংশ চলন্ত গাড়ী থেকে পড়ে, ১.২৬ শতাংশ চাকায় উড়না পেঁছিয়ে ও ৫.০২ শতাংশ অনান্য অজ্ঞাত কারনে দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে।দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফিটনেসবিহীন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন। বিরতিহীন এবং বিশ্রামহীন ভাবে যানবাহন চালানো। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালক-হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে অটোরিক্সা, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল। বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো।সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা। সড়ক-মহাসড়কে বেহাল দশা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কয়েকটি সুপারিশমালা তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সুপারিশগুলো হলো: সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে রোড সেইফটি ইউনিট গঠন করে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিকারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা জন্য জাতীয় পর্যায়ে সরকারি ভাবে “চালক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” গড়ে তোলা। নিয়মিত রাস্তার রোড সেইফটি অডিট করা। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা। ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা। মহাসড়কে ধীরগতির যান ও দ্রুত গতির যানের জন্য আলাদা আলাদা লেইনের ব্যবস্থা করা। মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, অটোরিক্সা বন্ধে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা। ভাঙ্গাচোড়া রাস্তাঘাট মেরামত করা। ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ফুটপাত, আন্ডারপাস, ওভারপাস তৈরি করে পথচারীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সেইফ রোড অ্যান্ড ট্রান্সর্পোট এলায়েন্স
(স্রোতা) আহবায়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, পিএসসির সাবেক চেয়্যারম্যান ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ফুয়ারার সভাপতি ইকরাম আহমেদ, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যার আইয়ুবুর রহমানসহ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here