ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে-ইরফান খান

0
254

এখন এক অন্য রকম আলোয় জীবনকে দেখতে পান বলিউড অভিনেতা ইরফান খান। ক্যানসারের সঙ্গে চলছে তাঁর যুদ্ধ। ইতিমধ্যে চারটি কেমো থেরাপি শেষ করেছেন। দিতে হবে আরও ছয়টি কেমো। এপির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থার কথা ব্যাখ্যা করেছেন এ অভিনেতা।

ইরফান খান বলেন, ‘শুরুতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। এখন সেটা সহ্য করতে পারছি। ৩০ বছর মেডিটেশন করেছি। সুতরাং এই কষ্ট সহ্য করা আমার জন্য কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘জীবন আপনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। সেগুলোকে সহজভাবে গ্রহণ করতে হবে। আমি এই অবস্থাটিকে এমনভাবে নিয়েছি, যেন আমার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে—শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক পরীক্ষা। এটা আমাকে একটা আনন্দময় পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। মানুষকে প্রকৃতির ওপর আস্থা রাখতেই হবে। সমস্যা হচ্ছিল, যখন লোকে বলাবলি করছিল যে আমি ফিরে আসতে পারি কি না।’

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ইরফানের শরীরে ‘নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার’ নামের একধরনের বিরল ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। এক প্রশ্নের জবাবে ইরফান বলেন, ‘পরাবাস্তব এক অনুভূতি। চিত্রনাট্য পড়া পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছি। অনিশ্চিত একটা অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। কিছু নিয়েই ভাবি না এখন। সকালের নাশতার পর কোনো পরিকল্পনা করি না। যখন যা করতে হয়, তখন সেটাই করি। এ অবস্থাটা আমাকে বেশ সাহায্য করছে। অভিজ্ঞতাটা ভালো।’

ইরফান বলেন, ‘কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, জীবনে কিছু একটা মিস করছি। মনে হচ্ছিল মন নিজেই আমাকে পরিচালনা করছে। নিজের ভেতরে একটা ছন্দপতন টের পাচ্ছিলাম। পরে বুঝলাম, স্বতঃস্ফূর্ততার অভাব। আমরা তো একটা পরিকল্পনায় মোড়া পৃথিবীতে বাস করি। একটা নকল পরিস্থিতির ভেতর। এভাবে বাঁচা যায়? জীবন আসলে রহস্যময়। জীবনকে আমাদের অনেক কিছু দেওয়ার আছে, যা আমরা একদমই চেষ্টা করি না। আমি আসলে সৌভাগ্যবান যে আমি চেষ্টা করছি।’

লন্ডনে চিকিৎসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইরফান বলেন, ‘চতুর্থ কেমো দেওয়া হয়েছে। আরও ছয়টি কেমো দিতে হবে। তৃতীয়টি দেওয়ার পর স্ক্যান পজিটিভ হয়। ষষ্ঠটি পর্যন্ত দেখতে হবে। দেখি কী হয়। কারও জীবনেরই আসলে নিশ্চয়তা নেই। মনটাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলাতে পারি, যেহেতু অসুখ করেছে, কয়েক মাস বা এক বছর বা দুই বছর পর মরে যাব। কিন্তু এসব বাদ দিয়ে যেভাবে বাঁচা যায় বাঁচব। এই ধাক্কাটা আমাকে সবকিছু অন্য রকম করে গ্রহণ করতে শিখিয়েছে। এ জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’ হিন্দুস্তান টাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here