ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা দিতে কারাগারে আদালত : জয়নুল আবেদীন

0
135

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা প্রদান করার লক্ষ্যে বেআইনিভাবে একটি অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে। যাতে সাধারণ জনগণ বিচারের নামে সরকারের বেআইনি কার্যক্রম দেখতে বা বুঝতে সক্ষম না হয়।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জয়নুল আবেদীন বলেন, বকশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে অস্থায়ী আদালতে পূর্বে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা শেষে রায় দেওয়া হয়েছে। তখন সরকার নিরাপত্তার অযুহাত দেখাননি। সেখানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো, বড়পুকুরিয়া ইত্যাদি মামলার বিচারকার্যক্রম চলছে। এছাড়াও জাতীয় পার্টির হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের বিচারকার্য ঐ আদালতেই চলছে। এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে কিংবা নিরাপত্তাজনিত কোন কারণ দেখিয়ে ঐসকল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্য পরিচালনার জন্যে জেলখানার অভ্যন্তরে কোন আদালত স্থাপন করা হয়নি। তাছাড়া ঢাকা জজ কোর্ট এলাকা অত্যন্ত জনবহুল এবং সেখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিচারকার্য চলে। ঐ এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এলাকা। কিন্তু নিরাপত্তার অযুহাত দেখানো হয়নি।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মূহুর্তে জনগণের দাবি ও দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এবং খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপকৌশল হিসেবে এসব করা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত মামলাসহ ৩৪টি মামলায় জামিন প্রাপ্ত হয়েছেন। আর ২টি মামলায়ও তিনি অচিরেই জামিন পাবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

বারের সভাপতি আরও বলেন, পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ৭নং কক্ষটিকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫(৩) এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫২ ধারা মোতাবেক কোন উন্মুক্ত আদালত হতে পারে না। সেখানে পাবলিক তো দুরের কথা বেগম খালেদা জিয়া ও অন্যান্য আসামিদের নিয়োজিত আইনজীবীগণ, আসামিদের আত্মীয়-স্বজনের আদালতের কার্যক্রম দেখা বা শ্রবন করারও কোন সুযোগ নাই। আমরা শুনেছি যে, আদালত কক্ষটি ২৪ ফিট বাই ২৬ ফিট আয়তনের। নাটক সিনেমায় যে রকম দেখানো হয় সেই আকৃতির একটি আদালত কক্ষ বসানো হয়েছে। যেটি একটি গুহার মতো, সেঁত সেঁতে এবং সেখানে স্বাভাবিক শ্বাস নিশ্বাসের ব্যবস্থা নেই। ফলে কারা অভ্যন্তরে গঠিত আদালতটি মোটেই উন্মুক্ত আদালত না হওয়ায় এবং সেখানে পাবলিক ট্রায়াল হওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় এইরূপ বে-আইনি আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম চলার আইনগত কোন সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে ব্যাংকের টাকা উধাও, কয়লা উধাও, স্বর্ণ উধাও সহ সরকারের লোকজন অন্য দেশে শীর্ষ ধনীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হচ্ছেন। দূর্নীতি এবং দুঃশাসনে জনগণের নাভিশ্বাস হয়ে পড়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে সম্পন্ন হলে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের চরম ভরাডুবি হবে। মূলত এ আশঙ্কা থেকেই বর্তমান সরকার বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা ৫ই জানুয়ারির মতো একটি নীল নকশার নির্বাচন করার অপপ্রয়াস এর অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে কারাগারে আটক রেখেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here