খাগড়াছড়িতে বাড়ছে নারী বাইকারদের সংখ্যা

0
141

কেমিয়া চাকমা। পেশায় কলেজ শিক্ষিকা। খাগড়াছড়ি সদরের মধুপুরে তার বাড়ি হলেও কর্মস্থল সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া কলেজ। ওই শিক্ষিকাকে প্রতিদিন ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল না করে স্কুটি চালিয়ে নিয়মিত কলেজে যাচ্ছেন তিনি। এতে করে সময় ও অর্থ দুইই সাশ্রয় হচ্ছে তার।

শুধু শিক্ষিকা কেমিয়া চাকমাই নয়, খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়কে এখন তার মতো প্রায় শতাধিক নারী স্কুটি চালাচ্ছে। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে এবং গণপরিবহনের ঝামেলা এড়ানোর জন্য পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের কাছে এ বাহনটি বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের দেখে অনেক নারীই স্কুটি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া কলেজের ম্যানেজমেন্টের লেকচারার কেমিয়া চাকমা বলেন,‘প্রথমে পরিবারের কেউ স্কুটি ব্যবহারে সাপোর্ট বা সমর্থন করেনি। আমি নিজের ইচ্ছায় বছরখানেক আগে স্কুটি কিনেছি। গত এক বছরের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি গণপরিবহনের চেয়ে স্কুটি ব্যবহারে ঝামেলা অনেক কম, সাশ্রয়ী, আরামদায়ক ও সময়োপযোগী।’

খাগড়াছড়ি সদরের নারী উদ্যোক্তা আনুচিং মারমা বলেন,‘স্কুটি কেনার পরপরই কাজে গতি এসেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় মতো যাওয়া আসা করতে পারি। আগে যেমন বিভিন্ন পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো এখন সেই ঝামেলা নেই।

শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী ত্রিপুরা বলেন,‘এখন সময় মতো কলেজে যেতে পারি, পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারি। বন্ধুদের পৌঁছে দিতে পারি। নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে।’

খাগড়াছড়ি সদরের নৃত্য শিল্পী রিয়া চাকমা বলেন, ‘স্কুটি আমার কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। আমি এখন সব কাজ সময় মতো করতে পারি। নারীরা স্কুটি চালাচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে এখনো সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং অবস্থানগত কারণে অনেক সময় ইভটিজিং ও হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে যেভাবে নারী স্কুটি চালকের সংখ্যা বাড়ছে তাতে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টানো সময়ের ব্যাপার

খাগড়াছড়ি শহরের মেসার্স আম্বিয়া মোটরস এর স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন,‘আগের তুলনায় এখন স্কুটি বাইকের ব্যবহার বেড়েছে। তবে গড়ে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা দামের স্কুটির ক্রেতার সংখ্যা বেশি। গ্রাহকদের চাহিদার ওপর নির্ভর করেই আমারা শোরুমে স্কুটি রাখছি।

খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান,‘সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বাইক চালানোর সময় নারীরা হয়রানি শিকার হচ্ছে এমন অভিযোগ এখনো তিনি পাননি। তবে সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহন ও সুযোগের সমতার কথা মাথায় রেখেই কাজ করে পুলিশ। কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নারী বাইকারদের কেউ হয়রানির চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

খাগড়াছড়ি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন,‘খাগড়াছড়িতে শতাধিক নারী স্কুটি বাইক ব্যবহার করছে। অনুকূল পরিবেশ আছে বিধায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এরইমধ্যে বিভিন্ন হোন্ডা শোরুমে অনেক স্কুটির অর্ডার পড়েছে। স্কুটি ব্যবহারে নারী বাইকারদের যেমন সুবিধা হচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়ীদের ও লাভ হচ্ছে।

– বাংলাট্রিবিউন

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here