খালেদা জিয়ার বিভক্ত-রায়ের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী আমেজ চরমে : নাঈমুল ইসলাম খান

0
269

আমাদের নতুন সময় এর সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেছেন, সারাদেশে এই মুহূর্তে এটিই হচ্ছে এক নাম্বার ইন্টারেস্টেড বিষয়। বিএনপি একসাইটেড। তাদের পয়েন্ট অব ভিউ হচ্ছে বিভক্ত রায় মানেই ডালমে কুচ কালা হে। আওয়ামী লীগও একসাইটেড। আওয়ামী লীগের পয়েন্ট অব ভিউ, আইনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা তো নমিনেশন প্রসেস এর আগেই সুপ্রিম কোর্টে রিজলভড হয়ে গেছে। মঙ্গলবার ডিবিসি নিউজ’র সংবাদ সম্প্রসারণ অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, যতদিন ফাইনালি বিষয়টি রিজলভড হবে না অসাধারণ একটি মজার ব্যাপার হবে। নির্বাচনের আগ্রহটা থাকবে চরমে।

তিনি বলেন, চূড়ান্ত রায়ে খালেদা জিয়া নির্বাচনে যোগ্য হতেও পারেন, নাও হতে পারেন। তবে সিনারিওটা মনে হচ্ছে, ইলেকশন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসবে না, যেহেতু আপিল করতে পিটিশন করতে সময়ক্ষেপণ হবে। এমনও হতে পারে, ইলেকশনের আগের দিনেও খালেদা জিয়ার তিনটি আসনে ইলেকশন স্থগিত হবে। এমনকি ইলেকশনের দিনও সেটা হতে পারে। আমরা জানি, দুর্ঘটনা হলে, সহিংসতা হলেও ইলেকশন স্থগিত করার আইন আছে।

তিনি আরো বলেন, নমিনেশন বাতিল হবে নাকি গৃহীত হবে তা ডিসাইড করার মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন রিটার্নিং অফিসার। রিটার্নিং অফিসার খালেদা জিয়ার প্রার্থীতা বাতিল করেছেন। কিন্তু বাতিল করার যে কারণটা দেখিয়েছেন তা খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কী না এটাই মূলত চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বাতিল সাংবিধানিকভাবে হয়নি উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বক্তব্য, মূল রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত যেহেতু ইনকারেক্ট খালেদা জিয়াকে নির্বাচন করতে দিতে হয়। ডেফিনেটলি সমস্ত কিছুর ওপরে সংবিধানের বিধানটাই প্রযোজ্য হবে। কারণ, একজন কর্মকর্তার মিসটেকের কারণে সংবিধানের লঙ্ঘন হবে সেটাতো রাষ্ট্র হতে দেবে না।

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ইলেকশন কমিশনে আপিলে এসে বিভক্ত রায় হলো। হাইকোর্টে গিয়েও বিভক্ত রায়। সরকার পক্ষের আর্গুমেন্টটি হলো, আপিলে তো সাজা স্থগিত করা হয়নি। আর বিএনপিপন্থীরা আর্গুমেন্টে বলছে, আপিলে যাওয়া মানেই চলমান। চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। সুতরাং এটি নিশ্চিত না, উনি রিয়েলি গিল্টি কী না। এখন বিষয়টি থার্ড জার্জ এর কাছে যাবে। এরপর হয়তো ফাইনাল অর্ডার দিয়ে দেবে। কিন্তু বিএনপি বা সরকারপন্থী ল’য়াররা আবারো আপিলে যাবে। এভাবে সময় ব্যাহত হবে। এটুকু বলা যায় যে, সময়ক্ষেপণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী উত্তেজনা দারুণ বৃদ্ধি পাবে।

নাঈমুল ইসলাম খান আরো বলেন, আমরা আসলে সিডিউলের আগেও কেউই ভাবিনি, এতই একসাইটিং অবস্থা হবে। বিএনপির যেখানে অস্তিত্বই ছিলো না বলে মনে হচ্ছিলো, তারা যেভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা, শক্তিমত্তা ও কৌশলের সাথে নির্বাচনের এই পর্যায়টা পার করেছে এবং এখনও স্টিল ফাইটিং, খালেদা জিয়ার জন্য এখনও হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্টে লড়াই করছে, এতে করে নির্বাচনী সময়টা হয়ে গেছে অপরুপ একসাইটিং।

নির্বাচনী সংঘাতের আশংকা প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রথমে উষ্ণ ছিলো, পরে উত্তাপ বাড়তে বাড়তে উত্তপ্ত হবে। অলরেডি সংঘাত শুরু হয়ে গেছে। আমার ধারণা একটু নিয়মিত সংঘাতের দিকে যাবে। বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত হবে। প্রার্থনা করি, নির্বাচনী আগ্রহ ও আমেজ যেনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী-সংঘাতপূর্ণ না হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here