খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন এখনো সাজা না পাওয়া কুমিল্লার ২ মামলায়

0
153

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে রয়েছেন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা খাটতে, এ ধারনা ভুল। এ মামলায় তার পাঁচ বছরের কারাদ- বহাল থাকলেও ১৬ মে থেকে তিনি সেই মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জামিন পেয়েছেন। সুতরাং ওই মামলায় এখন তার কারাগারে থাকার কথা ছিলনা। তিনি কারামুক্ত হওয়ার অধিকারী। আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এই ব্যাখ্যা জানাগেছে।

আজ খালেদা জিয়া যে কারাগারে আছেন সেটা কুমিল্লার হত্যা ও নাশকতার দুই মামলায় জামিন না হওয়ার কারনে। নাশকতার মামলায় জামিন শুনানি করতে ১২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে দিয়েছেন কুমিল্লার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক একেএম শামসুল হক। ওই আদালতে শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আবেদন করা হবে। এছাড়া হত্যা মামলায় শুনানির জন্য এখনো দিন ধার্য হয়নি। হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত জামিন নামঞ্জুর করলে দায়রা জজ আদালতে আবেদন করতে হবে। সেখানেও জামিন নামঞ্জুর হলে তবেই হাইকোর্টে আবেদন করা যাবে বলে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী এহ্সানুর রহমান।

এর আগে কুমিল্লায় নাশকতা ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদনটি এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে গত ১৩ আগস্ট নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই মামলায় এর আগে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে গেছে বলে জানান আইনজীবীরা।

অপরদিকে কুমিল্লার হত্যা মামলায় জামিন শুনানি শেষে নট প্রেস রিজেক্ট (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করেছেন হাইকোর্ট। গত ৬ আগস্ট আদালত এ আদেশ দেন। অবশ্য শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী খারিজের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, জামিন আবেদনের একটি পর্যায়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে অন্য কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়নি এবং নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে না। তবে মন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হয়নি। একের পর এক বেশ কয়েকটি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। যার ফলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেয়েও কারামুক্ত হতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের সাজা দেন বিশেষ জজ আদালত। এরপর ১২ মার্চ হাইকোর্ট এ মামলায় তাকে ৪ মাসের জামিন দিয়েছিলেন। পরে সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন আপিল বিভাগে গেলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৬ মে জামিন বহাল রাখা হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের জামিনের মেয়াদ বাড়াতে আবেদনের প্রেক্ষিতে ১২ জুলাই ১৯ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এরপর ২৬ জুলাই পর্যন্ত জামিন বাড়ানো হয়। আবার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ জুলাই করা হয়। আবারও তার জামিনের মেয়াদ ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ান হাইকোর্ট। সর্বশেষ ১৩ আগস্ট এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন আদালত।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে এখনো ধোয়াশা কাটছে না। এরইমধ্যে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দুটি ঈদ পার করতে হয়েছে কারাগারে। আর কয়েক মাস পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে তার মুক্তি নিয়েও নেতা-কর্মীদের মাঝে তৈরি হয়েছে হতাশা।

খালেদা জিয়াকে নাইকো দুর্নীতি মামলায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মাহমুদুল কবির এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১১ অক্টোবর খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে চার্জ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

এছাড়া নড়াইল ও ঢাকার মানহানী মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সাড়া দেননি চেম্বার বিচারপতির আদালত। গত ৩০ আগস্ট শুনানি শেষে জামিনের বিষয়ে কোন আদেশ না দিয়ে এটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়। আগামী ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নড়াইলে দায়ের করা মানহানির ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে গত ১৩ আগস্ট ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এছাড়া ঢাকার মানহানী মামলায়ও ১৪ আগস্ট ৬ মাসের জামিন দেন আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here