খেলাধুলা ও ইসলাম

0
179

সুস্থ শরীর ও সুন্দর মন পরস্পর পরিপূরক। ইসলাম একটি সুস্থ-সক্ষম মানবগোষ্ঠীর ধারণা দেয়। ইসলাম নিথর-নির্জীব জীবনবোধের বদলে ইবাদতের মাধুর্যে শরীর-স্বাস্থ্যের বিকাশকে উৎসাহ দেয়। খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক বিষয়াবলীকে ইসলাম ধর্মে খুব সর্তকতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়েছে। খেলা যখন খেলায় এবং বিনোদন যখন বিনোদনে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন ইসলাম এমন খেলা ও বিনোদনে বাধা দেয় না। কারণ খেলাধুলা পৃথিবীর আদিকাল থেকে শিশু-কিশোরদের মজ্জাগত স্বভাব ছিল ও আছে। এটা সর্বজন স্বীকৃত একটি বিষয়।

কিন্তু যখন এটাকে ব্যবসায়িক রূপ দেয়া হয়, যুবক-যুবতীরা খেলার নামে অশ্লীলতা ছড়ায় আর কিছু মানুষ মূল্যবান সময় খেলায় এবং অপরাংশ খেলা দেখায় নষ্ট করে, তখন তাতে কিছু বিধি-নিষেধ আবশ্যক হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রণ নৈপুণ্যের প্রয়োজনে তীর নিক্ষেপ, বর্শা চালনা, দৌড় প্রতিযোগিতা ইত্যাদিকে ইসলাম সমর্থন করে। প্রিয়নবী (সা.) বলেন, ‘ঘোড়া অথবা তীর নিক্ষেপ কিংবা উটের প্রতিযোগিতা ব্যতীত (ইসলামে) অন্য প্রতিযোগিতা নেই।’ (তিরমিজি, ৫৬৪) তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি তীর চালনা শেখার পর তা ছেড়ে দেয় সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (মুসলিম,৭৬৬৮)

অন্য হাদিসে এসেছে, নবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের জন্য তীর নিক্ষেপ শিক্ষা করা কর্তব্য। কেননা, এটা তোমাদের জন্য একটি উত্তম খেলা।’ (ফিকহুস সুন্নাহ, ২য় খ. পৃ ৬০)।
হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) হাফইয়া থেকে সানিয়াতুল বিদা পর্যন্ত সীমানার মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াসমূহের দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করেছেন। স্থান দু’টির দূরত্ব ছিল ছয় মাইল।’ (বুখারি, ৩৬৫৭)

অন্যত্র বর্ণিত আছে, হজরত আলি (রা.) এর দৌড়ের গতি ছিল খুব বেশি। তাই তো দেহ মনের আনন্দের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে হজরত আলি (রা.) বলতেন, ‘অন্তরকে কাজের ফাঁকে ফাঁকে অবকাশ ও শান্তি দান কর। কেননা, অন্তরের অস্বস্থি অন্তরকে অন্ধ করে ফেলে।’
ইসলাম নির্দিষ্ট কোন খেলাধুলাকে জায়েজ বা নাজায়েজ বলে নাই; বরং তিনটি শর্তের সঙ্গে জায়েজ-নাজায়েজের সম্পর্ক। তা হলো, ১. শারীরিক উপকার সাধন ২. ইসলামি শরিয়াতের কোন বিধান লঙ্ঘন না হওয়া ৩. আর্থিক ক্ষতিসাধন না হওয়া। এ তিনটি শর্ত যে খেলার মাঝে পাওয়া যাবে তা জায়েজ, আর পাওয়া না গেলে জায়েজ নয়।

খেলাধুলার খারাপি সর্ম্পকে সুরা লোকমানের ৬ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষের মধ্যে এক শ্রেণির মানুষ এমন আছে, যারা খেলাধুলা-কৌতুকাবহ কথা ক্রয় করে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ভ্রষ্ট করার জন্য। আর এটা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবনামনাকর শাস্তি। আলোচ্য আয়াতটি খেলাধুলা ও অনর্থক কাজের নিন্দায় সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য। (রুহুল মাআনি, ৫৬৪৪)

প্রখ্যাত মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ শফী (র.) তাঁর ‘আহকামুল কুরআনে’ বর্ণিত আয়াতের হুকুম প্রসঙ্গে বলেন, পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে ঐসকল কথা, কাজ, বস্তু ও বিষয়কে হারাম করা হয়েছে, যা মানুষকে আল্লাহ তায়ালার এবাদত ও তাঁর স্মরণ থেকে গাফেল করে দেয়। তা গান-বাজনা হোক বা খেলাধুলা কিংবা ক্রিড়া-কৌতুক-সবই এর অর্ন্তভূক্ত।

বর্তমানে প্রচলিত খেলাধুলায় ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিফলন প্রায়ই পরিলক্ষিত হয় না। এসব খেলার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি, নামাযের প্রতি অবহেলা, অন্য ধর্মের অনুকরণ, সময় ও অর্থের অপচয়, জুয়া-বাজিধরা, রঙখেলা, গ্যালারিতে নৃত্য-গান, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, উল্কী আঁঁকা ইত্যাদির বাহুল্য থাকে। তাই এসব খেলাধুলা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here