গণপরিবহন আগের তালেই, শৃংঙ্খলা ফিরেনি

0
180

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে এখনো শৃঙ্খলা ফিরেনি। চলছে আগের তালেই। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ২৯ জুলাই সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক আন্দোলনের পরও চালকদের মধ্যে সচেতনতা আসেনি। গণপরিবহন চালকদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যও কমেনি। প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে নিরীহ প্রাণ। বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার বাসে ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশা খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থালেই দুই জন মারা যান। আহত হয়েছে ৩ জন। ভোরে কুষ্টিয়ায় বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে আহত শিশু আফিফা হাসপাতালে মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুশৃঙ্খল নিয়মের অভাবেই ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা বাসে ওঠা-নামা করছেন। কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছায় পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা। বাস মালিক সমিতি বলছে, পর্যাপ্ত বাস স্টপেজ না থাকায় চালকরা বাধ্য হচ্ছে যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা করাতে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, যারা রুট পারমিট দেয় তারা একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করে যাত্রী ধরার একটা প্লানিং করেছে। সবাইকে যদি এক ছাতার নিচে নিয়ে এনে নির্দিষ্ট রংয়ের বাস দেয়া যায়, দিনের শেষে যদি যারা যার শেয়ার নেয়া যায় এবং চালককে ব্যবসা করতে না দিয়ে তাকে যদি বেতনভুক্ত করা যায় তাহলে একটা দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে।

পরিবহন সমিতির চেয়ারম্যান সোহেল তালুকদার বলেছেন, অ্যাসোসিয়েশন থেকে স্পষ্টভাবে বলেছি, কোনোভাবেই চুক্তিতে গাড়ি চালানো যাবে না। আমরা আশাবাদী এতে কিছু হলেও কাজ হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, মালিক, চালক, জনগণ সবাই যদি সহযোগিতা করে তাহলে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বলবো আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এবার আপনাদের দায়িত্ব পালন করেন।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ১২০টা স্টপেজ আছে।এর বাইরে কোথাও বাস না দাঁড়ায় সেজন্যে মালিক শ্রমিকদের সহযোগিতা লাগবে। ৬টি কোম্পানির মাধ্যমে ঢাকা শহরে বাস চলবে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তত্বাবধানে আমরা এই কাজটি করবো। সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করতে মালিকপক্ষ থেকে চালকসহ অন্যদের কেন এখনো সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি, এ বিষয়ে পরিবহন নেতা ও মালিকরা কথা বলতে চাননি। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কামাল বলেন, সিটিং সার্ভিসে স্ট্যান্ডিং প্যাসেঞ্জার থাকে। একজন লোক পল্লবী থেকে উঠে ফার্মগেট নেমে গেল, কিন্তু তার মতিঝিল পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়। এটা এখন চলছে। আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি, কিন্তু এখন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।

শিগগিরই ভাড়া নির্ধারণ, বাসের রং ও সীমিত স্টপেজ করার সুপারিশের মাধ্যমে নীতিমালা ঠিক করে সমস্যা সমাধান করার কথা জানায় পরিবহন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিআরটিএ। বিআরটিএ’র সচিব শওকত আলী বলেন, যদি কেউ সিটিং সার্ভিস চালাতে চায় তাহলে তাকে নিয়মনীতি আইনের মধ্যে চালাতে হবে। তবে, পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিটিং সার্ভিস নগরীতে যেমন যানজট বাড়াবে, তেমনি বাড়াবে জনদুর্ভোগও।

যাত্রীরা বলেন, গাড়ি চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিকল্প নাই। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে ড্রাইভারই কিসের। এত আন্দোলন হওয়ার পরেও কোন উন্নতি নেই। যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ছয় মাসে সারাদেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০টি। এর মধ্যে নিহত হন ৩ হাজার ২৬ জন এবং আহতের সংখ্যা ৮ হাজার ৫২০ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here